অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ দিয়ে ভোরে শুরু বাংলাদেশের সুপার এইট চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের পথচলা দুই যুগের হলেও এখনও সাফল্যের খাতায় তেমন বড় কোনো অর্জন নেই। শান্ত-সাকিবদের সামনে সুযোগ সেই পরিসংখ্যান পাল্টে নতুন ইতিহাস লেখার। প্রথমবারের মতো সুযোগ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিতে খেলার। আপাতদৃষ্টিতে অনেক বড় স্বপ্ন মনে হলেও, ক্রিকেটে যে সবই সম্ভব। সেই লক্ষ্যে শুক্রবার ভোরে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের দল। খেলা শুরু ভোর সাড়ে ৬টায়।
সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বিশ্বকাপে ২০০৭ সালে সুপার এইট পর্ব খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর ১৭ বছর কেটে গেলেও শেষ আটে ওঠা হয়নি শান্তদের। এবার গ্রুপপর্বে তিন ম্যাচ জিতে রানার্সআপ হিসেবে শেষ আটে হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। যা বড় অর্জন বটে। এই রাউন্ডে তিনটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। যার শুরুটা অস্ট্রেলিয়াকে দিয়ে। প্রতিপক্ষ হিসেবে অসিরা বেশ কঠিন হলেও চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে শান্তরা।
ম্যাচ পূববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তেমনটাই জানিয়েছেন প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। এই বিষয়ে তিনি বলেন,‘পরিকল্পনা অন্য সব দলের মতোই, ব্যাটিং কিংবা বোলিংয়ে আমরা শক্তিশালী শুরু পেতে চাই। তবে অনেক জায়গাতেই ব্যাটারদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে পিচ। আর পিচের চরিত্র বোঝাও খুব কঠিন। আমরা ভেবেছিলাম সেন্ট ভিনসেন্টের পিচ ভালো হবে। কিন্তু সেটাই খুব কঠিন হয়ে উঠল। বোলিংবান্ধব হয়ে উঠল, সেটি শুধু পেস কিংবা স্পিন নয়, দুটোতেই। তাই আমাদের পরিকল্পনা হলো ব্যাটিং বা বোলিং যেটাই হোক, শুরুটা ভালো করা।’
পরিসংখ্যানে অবশ্য বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে অসিরা। টি-টোয়েন্টিতে দুদলের ১০ বারের দেখায় ৬ বারই শেষ হাসি অসিদের। বাকি ৪টিতে জয় বাংলাদেশের। সেটিও আবার মিরপুরে। ২০২১ এ সেই সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। একই বছর ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ফের অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ৮ উইকেটে হার শান্তর দলের।
পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশকে সমীহ করছেন অসি অধিনায়ক মিচেল মার্শ। জিততে হলে সেরাটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এই তারকা ক্রিকেটারের। বাংলাদেশকে সমীহ করে মার্শ বলেন, ‘ যে দলগুলো সুপার এইটে খেলছে, তারা কেউই সহজ প্রতিপক্ষ নয়। কারণ সবাই নিজেকে প্রমাণ করেই এই মঞ্চে এসেছে। এই ধরনের কন্ডিশনে বাংলাদেশ আমাদের জন্য শক্ত প্রতিপক্ষ। তাদের প্রতি আমাদের যথেষ্ঠ সম্মান আছে। আশাকরি তাদের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটাই দিতে পারব।’
বাংলাদেশের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ কামিন্স-স্টার্কদের নিয়ে গড়া অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণ। যাদের সামনে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে শান্ত-লিটনদের। পাশাপাশি আছেন বিশেষজ্ঞ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। যিনি এর আগেও বাংলাদেশকে বেশ ভুগিয়েছেন। তাই এদের সামলে খেলতে হবে ব্যাটারদের। যদিও এই ম্যাচে জয় পেতে হলে ব্যাটারদের ছন্দে ফেরার বিকল্প নেই।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার জন্য ভয়ের কারণ পেসার মুস্তাফিজের দারুন ছন্দ। নিজের দিনে যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারেন ফিজ, তা ভালোই জানা দলটির। পাশাপাশি তাসকিন-সাকিবরা সঠিক লাইন, লেন্থ মেনে বোলিং করতে পারলে ভুগতে হতে পারে অসি ব্যাটারদের।
এই মাঠে মোট ১৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে আগে ব্যাটিং করা দলের গড় স্কোর ১২৮। এই উইকেটে সাধারণত পেসাররা বাড়তি সুবিধা পান। ১৭টি টি-টোয়েন্টিতে মোট ১২০ উইকেট নিয়েছেন পেসাররা। স্পিনারদের শিকার ৭৬ উইকেট। যার ফলে এই ম্যাচে টস জেতাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এর ওপর রয়েছে বৃষ্টির শঙ্কাও। সবকিছু মাথায় নিয়েই নামতে হচ্ছে দুদলকে।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য সুখবর। আইপিএলে পাওয়া হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন অধিনায়ক মিচেল মার্শ। অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে বোলিং করতেও আর বাধা নেই অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কের। যদিও অসিদের একাদশে পরিবর্তনের খুব একটা সম্ভাবনা নেই। তবে, একাদশে পরিবর্তন আনতে পারে বাংলাদেশ। দেখা যেতে পারে বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামকে। সেক্ষেত্রে বাদ পড়তে পারেন ব্যাটার জাকের আলী অনিক। চার পেসার নিয়ে একাদশ সাজাবে কিনা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। আর তিন স্পিনার নিয়ে খেললেও একাদশে দেখা যেতে পারে একজন বাড়তি স্পিনারকে। তখন সুযোগ মিলতে পারে বাঁহাতি তানভীর ইসলামকে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ:
তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, তাওহিদ হৃদয়, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তানভীর ইসলাম, রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ (সহ-অধিনায়ক) ও তানজিম হাসান সাকিব।