বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে আজ শপথ নেবেন নীতিশ কুমার

ভারতের বিহার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে আজ সোমবার শপথ নিচ্ছেন সংযুক্ত জনতা দলের (জেডিইউ) প্রধান নীতিশ কুমার। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবার বিহারে উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হচ্ছেন নতুন মুখ। বিজেপির তারাকিশোর প্রকাশ পেতে যাচ্ছেন এই পদ। বিজেপির উপ-মুখ্যমন্ত্রী থাকা সুশীল মোদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় স্থান দেওয়া হচ্ছে। ফলে তিনি এবার বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন না।
তারাকিশোর প্রকাশ জানিয়েছেন, দল তাঁকে যে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দিয়েছে, তা তিনি নিষ্ঠার সঙ্গেই পালন করবেন।
এদিকে, এ নিয়ে বিহারে চতুর্থবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে যাচ্ছেন নীতিশ কুমার। তবে এনডিএ জোটে কম সংখ্যক আসন নিয়েও নীতিশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় জোটের ভেতরে-বাইরে অনেকের মধ্যেই ক্ষোভ জমেছে। এত অল্প সংখ্যক আসন নিয়ে কী করে নীতিশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন, তা নিয়েও কানাঘুষো তৈরি হয়েছে।
অনেকে দাবি করছেন, এবারের ভোটে নীতিশ কুমারের জেডিইউ যে ভোট পেয়েছে, এতে করে তাঁর উচিত ছিল নিজে থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদ থকে সরে দাঁড়ানো। এবার প্রয়োজন ছিল, বিজেপির জয়ী কোনো বিধায়ককে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী করা।
তবে বিজেপি বিধানসভা ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, নীতিশ কুমারকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছে। এদিকে, নীতিশ কুমার বিধানসভা ভোটের আগে বিহারের একটি জনসভায় দাঁড়িয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এটাই তাঁর শেষ বিধানসভা ভোট। অথচ বিহারে এনডিএ জয়ী হওয়ার পরই তিনি বলেন, অবসর নেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই তিনি করেননি।
এদিকে, নীতিশ কুমার ফের বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে যাওয়ার আগে তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী মহাজোট। মহাজোটের অন্যতম শরিক দল আরজেডি দাবি করেছে, নীতিশ কুমারের যোগ্যতা নেই বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার। বিহারের মানুষ তাঁকে চান না বলেও জানিয়েছে আরজেডি।
আরজেডির দাবি, তেজস্বী যাদবের মতো কাউকে বিহারবাসী মুখ্যমন্ত্রী পদে দেখতে চায়। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নীতিশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী হলেও বিহার শাসনের ক্ষেত্রে বিজেপির আধিপত্যই জারি থাকবে।
এরই মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিজেপির সদর দপ্তরে হাজির হয়ে কর্মীদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নীতিশ কুমারের অধীনেই বিহারে এনডিএ সরকার গঠন হবে। ফলে বিহারে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন নীতিশই। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, মাথায় কার্যত কাঁটার মুকুট নিয়েই বিহার অধিপতি হতে চলেছেন তিনি।
এদিকে, গত শুক্রবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন নীতিশ কুমার। তিনি বিহারের রাজ্যপাল ফাগু চৌহানের সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। ওই সময়ই রাজ্যপাল চলতি বিহার বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
এবার মুখ্যমন্ত্রী হলে এই নিয়ে চতুর্থবারের জন্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন নীতিশ কুমার। প্রথমবার ২০০০ সালে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হন। তারপর থেকে বিহারের নানা রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে একাধিকবার তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন। এবারের বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই বিজেপি বিহারের এনডিএ জোটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নীতিশ কুমারের নাম ঘোষণা করেছিল। সেই ঘোষণা মাফিকই নীতিশ কুমারের দল জেডিইউ বিজেপির থেকে অনেক কম আসন পেলেও বিজেপি তাদের কথা রেখেই নীতিশ কুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করতে চলেছে।