আসামে চিড়িয়াখানার পশুদের গোমাংস না দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ

ভারতে গোমাংস খাওয়া নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ ছিলই। তবে এবার সেই গোমাংস খাওয়া বন্ধের দাবি তোলা হলো চিড়িয়াখানার পশুদের ওপরও। ভারতের হিন্দুত্ববাদী নেতাকর্মীদের দাবি, চিড়িয়াখানায় মাংসাশী পশুদের কোনোভাবেই গোমাংস দেওয়া যাবে না। আর এ জন্য আসাম রাজ্যের গুয়াহাটির চিড়িয়াখানার সামনে গতকাল সোমবার বিক্ষোভেও নামেন তাঁরা।
পশুদের যাতে কোনোভাবেই গোমাংস না দেওয়া হয়, সেই দাবিতে আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েক ঘণ্টা গুয়াহাটি চিড়িয়াখানার সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
অসম স্টেট জু-এর ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার তেজস মারিস্বামী জানান, চিড়িয়াখানায় যাঁরা মাংস সরবরাহ করেন, তাঁদের গাড়ি আটকে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। চিড়িয়াখানার মাংসাশী পশুদের জন্য কীসের মাংস নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, জানতে চান তাঁরা। মাংসাশী পশুদের যাতে গোমাংস দেওয়া না হয়, সে জন্য প্রতিবাদ করতে থাকেন আন্দোলনকারীরা।
পরে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পুলিশে খবর দেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এরপর মাংসের গাড়ি চিড়িয়াখানার ভেতরে ঢোকে।
১৯৫৭ সালে অসম স্টেট জু প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় চিড়িয়াখানা বলে পরিচিত। গুয়াহাটির জিরো পয়েন্টে হেনগ্রাবাড়ি রিজার্ভ ফরেস্টের ১৭৫ হেক্টর জমি নিয়ে এই চিড়িয়াখানার অবস্থান। এ চিড়িয়াখানায় এক হাজার ৪০টি বন্যপশু এবং ১১২ প্রজাতির পাখি রয়েছে। পশুদের মধ্যে বর্তমানে এ চিড়িয়াখানায় আটটি বাঘ, তিনটি সিংহ ও ২৬টি চিতাবাঘ রয়েছে।