আসল মায়ের কোলে ফিরল সন্তান

পরিবারটি অসচ্ছল। তাদের ঘরে জন্ম নেয় ফুটফুটে এক শিশু ছেলে। তবে, জন্মের কিছুদিন বাদেই নিখোঁজ হয় ওই নবজাতক। অবশেষে, জন্মের সাত মাস পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেষ্টায় বাবা-মায়ের কাছে ফিরেছে ওই শিশু। ঘটনাটি বগুড়ার সান্তাহার উপজেলার। আর শিশুটিকে আসল বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে সাভার থানা পুলিশের একটি দল।
আজ সোমবার (১৫ মে) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথম স্ত্রীর অকাল মৃত্যুতে ২০২১ সালে ১৪ নভেম্বরে মোছাম্মদ হালিমা বেগমকে (৪১) বিয়ে করেন সাভারের তালবাগ এলাকার বাসিন্দা এইচ এম দেলোয়ার হোসেন। বিয়ের পর থেকে বাবার বাড়িতে যাতায়াত করতেন ওই গৃহবধূ। বিয়ের তিন মাসের মাথায় বাবার বাড়ি থেকে হালিমা তার স্বামীকে গর্ভবতী হওয়ার কথা জানান। এরপর থেকেই সেই বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন ওই নারী।
২০২২ সালের ৪ অক্টোবর বাবার বাড়িতে থাকা অবস্থায় দেলোয়ারকে ফোন দেন হালিমা। এ সময় তিনি জানান, তাদের ছেলে সন্তান হয়েছে, যার নাম রাখা হয়েছে রিয়াদুস সালেহীন ওরফে হামদান। সন্তান জন্মের এক মাস না যেতেই স্বামীর সাভারের বাড়িতে ফিরে আসেন ওই গৃহবধূ। সেখানেই দিন কাটতে থাকে তাদের। এর মধ্যেই সন্তানকে নিয়ে সন্দেহ হয় দেলোয়ারের। বিষয়টি নিয়ে স্ত্রী হালিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন স্বামী। একপর্যায়ে স্ত্রী স্বীকার করেন, ওই ছেলে তাদের নয়। সম্পদের লোভে আরেকজনের সন্তানকে কৌশলে নওগাঁর মাহদেবপুর নিয়ে এসেছেন তিনি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি জেনে গত ১২ তারিখে স্ত্রীকে তালাক দেন দেলোয়ার। এমনকি, বিষয়টি সাভার থানায় জানান ওই স্বামী। এরপরেই তদন্ত শুরু করে সাভার থানার পুলিশের একটি টিম। সরেজমিনে অনুসন্ধান করে ও হালিমার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দলটি জানতে পারে, হামদানের আসল বাবা-মা বগুড়ার সান্তাহার উপজেলা এলাকায় বসবাস করছেন। পরে, বগুড়া জেলা পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ওই বাবা-মার আবাসস্থল শনাক্ত করে ও তাদের কাছে হামদানকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ সদর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হামদান নামের ওই শিশুটির আসল বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, তারা দরিদ্র, অসচ্ছল ও অসহায়। এর ফলে, হারানোর পরেও নিখোঁজ সন্তানের কোনো খোঁজখবর নিতে পারেননি তারা। এ ছাড়া শিশুটির মা অসুস্থ থাকায় তারা কোনো প্রকার আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি।