রাজধানীতে পুলিশকে মারধরের ঘটনায় তিনজন কারাগারে
রাজধানীর ওয়ারীর জুরাইন রেলগেট এলাকায় তিন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে মারধর, পুলিশের কাজে বাধাদান এবং পুলিশ বক্সে ভাঙচুরের ঘটনায় তিন আসামিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা ইসলাম মল্লিক এই আদেশ দেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের কারাগারে প্রেরণের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া তিন আসামি হলেন- আবুল কালাম আজাদ, তানজিল হোসাইন ও মোতালেব হোসেন।
এর আগে গত শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারাহ দিবা ছন্দা শুনানি শেষে তিন আসামিকে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে শ্যামপুর থানায় আহত ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. আলী হোসেন বাদী হয়ে এজাহারনামীয় তিনজনসহ অজ্ঞাত সাড়ে চারশ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন—মোটরসাইকেলচালক সোহাগ-উল ইসলাম রনি, তাঁর স্ত্রী ইয়াসিন জাহান নিশাত ও শ্যালক ইয়াসির আরাফাত। সোহাগ রনি নিজেকে বার্তা বিচিত্রা নামক একটি অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। এর মধ্যে ইয়াসিন জাহান নিশাত ছাড়া বাকিদের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলা নম্বর ১১। গতকাল মঙ্গলবার এজাহারনামীয় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে, শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুল আলমের দাবি, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ওয়ারীর জুরাইন রেলগেট এলাকার রাস্তার উলটো দিক থেকে আসা মোটরসাইকেল আরোহীকে আটকে কাগজপত্র দেখতে চাওয়ায় ট্রাফিক সার্জেন্টকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। পরে তাঁকে উদ্ধারে আসা আরও দুই পুলিশ সদস্যকেও মারধর করা হয়।’
মফিজুল আলম বলেন, ‘মারধরের শিকার পুলিশের মধ্যে আহত সার্জেন্ট আলী হোসেনের হাতে ২১টি সেলাই দিতে হয়েছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁকে সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
মফিজুল আলম জানান, এ ছাড়া আহত অন্য দুই পুলিশ সদস্য হলেন ট্রাফিক কনস্টেবল সিরাজুল ইসলাম ও শ্যামপুর থানার উপপরিদর্শক উৎপল চন্দ্র।
ওয়ারি বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শাহ ইফতেখারুল আলম বলেন, ‘মোটরসাইকেলে এক নারীসহ দুজন আরোহী ছিলেন। কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট আলী হোসেন কাগজপত্র দেখতে চাইলে মোটরসাইকেল চালক দুর্ব্যবহার শুরু করেন এবং পোশাক পরা অবস্থায় অন ডিউটিতে থাকা ট্রাফিক সার্জেন্টের পরিচয়পত্র দেখতে চান। পরে দুজনকে পুলিশ বক্সে নেওয়া হলে সঙ্গে থাকা নারী উত্তেজিত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। পুলিশকে মারধর করেন। পুলিশবক্স ভাঙচুর করেন।’
শ্যামপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক এবং ওই নারী যাত্রীসহ তিনজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। আটকরা হলেন মোটরসাইকেল চালক বার্তা বিচিত্রা নামক পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া মো. রনি, তার স্ত্রী ইয়াসিন জাহান নিশাত ভুইয়া ও শ্যালক ইয়াসির আরাফাত ভুইয়া। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
মফিজুল আলম বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে মোটরসাইকেল আরোহী রনি তার পরিচিত লোকজনকে ডাকেন। ঘটনাস্থলের পাশেই তার বাসা। লোকজন এসে তখন নারী লাঞ্ছনার অভিযোগ তুলে সার্জেন্টকে মারধর করে এবং পুলিশ বক্সে ভাঙচুর করে। সে সময় মোটরসাইকেল চালক সার্জেন্টের বুকের উপর পা তুলে চেপে বসে। এ সময় ঘটনাস্থলে আসা উৎসুক জনতার মধ্য থেকে একজন সার্জেন্টের হাতে ছুরিকাঘাত করে।’