থাইল্যান্ডে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক হতে পারে নরেন্দ্র মোদির

দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে থাইল্যান্ডে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ব্যাংককে যাবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ বুধবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান এসব কথা জানান।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘বৈঠকটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমাদের আশাবাদী হওয়ার কারণ আছে, মিটিংটি হতে পারে। যতক্ষণ পর্যন্ত এটি না হচ্ছে ততক্ষণ আমরা আগ বাড়িয়ে কোনো মন্তব্য করব না।’
খলিলুর রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের প্রধান উপদেষ্টা বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান। আমরা আশা করছি, অন্যান্য সব সদস্য রাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধি এই সুযোগে তাঁর সঙ্গে বিমসটেকের আগামী দিনের কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা করবেন। এটা হওয়াই স্বাভাবিক। সে কারণে আমরা ভাবছি, এ সাক্ষাৎটি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটুকুই আছে।’
সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ড. ইউনূসের মন্তব্যের জেরে ভারতীয় নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘এই কথাটি প্রধান উপদেষ্টা এবারই প্রথম বলেননি। তিনি ২০১২ সালে একই ধরনের কথা বলেছিলেন। এর চেয়ে একটু এগিয়ে গিয়ে ২০২৩ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী (ফুমিও) কিশিদা দিল্লিতে বলেছিলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশের একটা ভ্যালু চেইনে আবদ্ধ করার এবং সিঙ্গেল ইকনোমিক জোনের কথা বলেছিলেন, যেটা বিগ বি ইনিশিয়েটিভ বলে গণ্য করা হয়। কানেক্টিভিটি এই অঞ্চলের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে, বিশেষ করে যাদের জন্য সমুদ্রে এক্সেস পাওয়া কঠিন। আমরা কানেক্টিভিটি জোর করে চাপিয়ে দেবো না, দেওয়ার মতো অবস্থাও আমাদের নেই। কেউ যদি নেন খুব ভালো, আর যদি না নেন তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। অত্যন্ত সৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথাই তিনি (ড. ইউনূস) বলেছেন। আমরা কানেক্টিভিটি সবার ইকুইটেবল বিনিফিটের জন্য দিতে আগ্রহী আছি।’
বিমসটেক সম্মেলনে অংশ নিতে আগামী ৩ ও ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডে অবস্থান করবেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সফরে তার সঙ্গে থাকবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন।

সফরকালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার সঙ্গেও প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে হওয়ার কথা রয়েছে।
শেখ হাসিনার পতনের তিন দিনের মাথায় গত বছরের ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দেন। এরপর নভেম্বরে আজারবাইজানে কপ-২৯ সম্মেলনে যোগ দেন তিনি। গত ডিসেম্বরে ড. ইউনূস ডি-৮ সম্মেলনে যোগ দিতে মিসর সফর করেন। এ ছাড়া চলতি বছর ২৬ মার্চ চীনে রাষ্ট্রীয় সফর করেন তিনি।