মতলবে জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত, ভোগান্তিতে রোগীরা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। চাহিদার তুলনায় চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক কর্মীর সংখ্যাও অনেক কম।
প্রতিদিন গড়ে ৪০০ জনের বেশি রোগী এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসছেন। ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে সেবা দিতে আর রোগীদেরও পড়তে হচ্ছে নানা ভোগান্তিতে।
২০১০ সালে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও, সে অনুযায়ী জনবল বা চিকিৎসা সরঞ্জামের কোনো পর্যাপ্ততা নিশ্চিত হয়নি। এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম যন্ত্রপাতিসহ নানা যন্ত্রাংশ রয়েছে অকার্যকর অবস্থায়, যেগুলো ব্যবহারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জনবল নিয়োগ না হওয়ায় চিকিৎসা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, সার্জন, স্বাস্থ্য সহকারী, টেকনিশিয়ানসহ মোট ২১২ জন জনবল থাকার কথা; কিন্তু বর্তমানে ৮৫টি পদ শূন্য রয়েছে।
চিকিৎসক থাকার কথা ১৪ জন, তবে আছেন মাত্র ৮ জন। ৩০ জন নার্স ও চারজন মিডওয়াইফ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ২৯ জন। নেই প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক, ক্যাশিয়ার ও পরিসংখ্যানবিদ। স্যাকমো টেকনোলজিস্ট থাকা উচিত ১০ জন, কিন্তু আছেন মাত্র চারজন। পাঁচজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর স্থলে কর্মরত আছেন কেবল দুজন।
জুনিয়র কনসালট্যান্ট থাকার কথা ১০ জন, আছেন মাত্র ৩ জন। কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার (সিএইচপি) থাকার কথা ২৭ জন, বাস্তবে রয়েছেন ২০ জন। এমনকি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক নেই, ফলে এই পরিষেবাও অকার্যকর হয়ে আছে।
এত সংকটের মধ্যে নিম্নমধ্যবিত্ত রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা এক রোগী জানান, ‘হাসপাতালের পরিবেশ বেশ অপরিষ্কার, টয়লেট ও বাথরুমের অবস্থা খুবই অস্বাস্থ্যকর।’
জানা গেছে মেডিকেল অফিসারদের আবাসিক ভবনগুলো পরিত্যক্ত এবং হাসপাতালের বেশ কিছু ভবন জরাজীর্ণ। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম রায়হান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইনডোরে ৫০ শয্যার স্থলে ৭০-৮০ জন রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। আউটডোরে প্রতিদিন ৪০০ জনের বেশি রোগীকে সেবা দিতে হয়। বহুবার কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা অনুযায়ী জনবল নিয়োগের আবেদন করা হয়েছে। কনসালট্যান্ট, চিকিৎসক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল না থাকায় আমরা চাপের মধ্যে রয়েছি। তবে সীমিত সজনবল নিয়েও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’