পটুয়াখালীতে লঞ্চে যাত্রীদের হয়রানি, কৌশলে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে ঢাকামুখী হাজারও মানুষ। আজ শুক্রবার (৫ এপ্রিল) পটুয়াখালী নদীবন্দর থেকে পাঁচটি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। যাত্রীদের অভিযোগ, এসব লঞ্চে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। এ ছাড়া কৌশলে আদায় করা হচ্ছে বেশি ভাড়া।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পটুয়াখালী থেকে ঢাকাগামী পাঁচটি লঞ্চের নিচতলা ও দোতলাসহ কেবিনের পার্শ্ববর্তী যে খালি জায়গাগুলো রয়েছে, সেখানে দুপুরের আগেই চাদর ও তোষক বিছিয়ে রাখছে একটি চক্র। দূরদূরান্ত থেকে আগত যাত্রীরা যখন খালি জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন এই চক্রটি সেই যাত্রীদের টার্গেট করে বিছিয়ে থাকা চাদর ২০০ বা ৩০০, এমনকি ৪০০ টাকায় বিক্রি করে। এ বিষয়ে লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ দিলেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লঞ্চের ডেকে আগে থেকেই স্টাফ ও বহিরাগতরা চাদর বিছিয়ে রাখে। পরে সেই চাদরের জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। প্রতিটি চাদরের জন্য ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিলুফা ইয়াসমিন নামে এক যাত্রী বলেন, ‘আমরা কষ্ট করে লঞ্চে উঠেছি, কিন্তু ডেকেও জায়গা পাচ্ছি না। স্টাফরা চাদর বিছিয়ে টাকা দাবি করছে। টাকা না দিলে বসতে দিচ্ছে না।’
ইয়াসিন আহমেদ বলেন, ‘টাকা দিয়েও নির্দিষ্ট জায়গা পাইনি, লঞ্চ কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের ব্যাপারে উদাসীন। তাদের লোকজনই এই চাদর বিক্রি করছে।’
বন্দর ও পরিবহণ কর্মকর্তা মো. জাকী শাহরিয়ার বলেন, ‘আমরা প্রতিটি লঞ্চে মনিটরিং করছি। এরকম যারা চাদর বিছিয়ে বিক্রি করছে, তাঁদের শনাক্ত করে লঞ্চ থেকে চাদর ফেলে দিচ্ছি।’