নতুন দল গঠন নিয়ে রাজনীতিবিদদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ঘটনাবহুল প্রেক্ষাপটে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামে নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে নতুন দলের আনুষ্ঠিত ঘোষণা দেওয়া হয়। বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা নতুন এ দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
রাজনৈতিকদলগুলোর নেতারা বলছেন, দল ঘোষণার আগেই নিজেদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে। নতুন দলের ছাত্র সংগঠন করতে গিয়ে ‘মারামারি’ পর্যন্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ‘মদদ’ নিয়ে আগেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, দল ঘোষণার আগে ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এটা নতুন দলের জন্য ‘ভালো খবর’ নয়। তাদের মধ্যে তারুণ্য আছে কিন্তু অভিজ্ঞতা নেই। আবার কেউ বলছেন, দেশের প্রতিটি মানুষের রাজনৈতিক দল করার অধিকার আছে। উপস্থিত রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য না দেওয়ার বিষয়টিও কেউ কেই নজরে আনেন। তারা বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিলেও আগে রেকর্ড করে রাখলে তা শোনাতে পারতো।
এনসিপির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন সেলিম। এ বিষয়ে এনটিভি অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘এটা গতানুগতিক। নতুনত্ব কিছুই নেই। কারও না কারও কথায় হয়তো মনের মধ্যে তাদের একটা আকাঙ্ক্ষা জন্ম নিয়েছে রাজনৈতিক দল করার। সে হিসেবে তারা একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। এতে নতুনত্ব কিছু নেই। পুরোনো কায়দায় পুরোনো ধাঁচের হয়েছে।’
শাহাদৎ হোসেন সেলিম বলেন, ‘এই মুহূর্তে তারা যদি কাউকে প্রতিপক্ষ না ভেবে, তারা যদি তাদের বক্তব্য নিয়ে এগিয়ে যায় তাহলে ভালো করবে। যদি কাউকে প্রতিপক্ষ বানায়, তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়া... হোঁচট খাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে তাদের গায়ে কিংস পার্টির তকমা লেগে গেছে। সেখানে থেকে বের হয়ে আশা তাদের জন্য কষ্টকর ও অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। তারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বললেও পুরোনো পথেই হাঁটছে। অপেক্ষার বিষয় তারা কতদূর যেতে পারে?’
দলটির নতুন বাংলাদেশ গড়ার শপথ প্রসঙ্গে শাহাদৎ হোসেন সেলিম বলেন, ‘এখানে নতুন কিছু বলেনি। এই কথাগুলোই আমরা বারবার শুনছি। সংস্কারের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী কায়দার অবসান, রাষ্টীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্তৃত্বমুক্ত করা, নতুন বাংলাদেশ করা। এগুলো আমরা বহুদিন ধরে শুনে আসছি।’ তিনি বলেন, ‘তাদের দলের মধ্যেই কোনো সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নেই। নতুন ছাত্র সংগঠন করেছে সেখানে তারা মারামারি করেছে। কমিটিতে বঞ্চিতরা অবরোধ করছে। তাদের মধ্যে তারুণ্য আছে কিন্তু অভিজ্ঞতা নেই। অভিজ্ঞতা থাকলে আজকের ঘোষণা অনুষ্ঠানও সুন্দর, সাবলীল হতো। তারা আজকে মঞ্চের মধ্যে আবু সাঈদের শুধু মাত্র একটি প্রতীকী ছবি দিয়েছে। আরও যারা শহীদ হয়েছেন তাদের কোনো ছবি নেই। আজকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে শহীদদের ছবি থাকা দরকার ছিল। সুতরাং খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই।’ শাহাদৎ হোসেন সেলিম আরও বলেন, ‘অনেক রাজনৈতিক দলের উত্থান-পতন দেখেছি। আজকেও একটি রাজনৈতিক দলের উত্থান দেখলাম। এর উত্থান হয় নাকি পতন হয় তা সময়ই বলে দেবে।’
এ বিষয়ে একটু ভিন্ন সুরে কথা বললেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। তিনি আজকে নতুন দলের ঘোষণা অনুষ্ঠানে ছিলেন। ইরান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘১৯৭৭ সালে বাংলাদেশে বহুদলীয় রাজনীতি প্রবর্তন করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এখানে প্রতিটি মানুষের নতুন রাজনৈতিক দল করা বা নতুন দলে যোগ দেওয়ার অধিকার আছে। আজকেও একটি নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা হয়েছে। আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, আমরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই কল্যাণ কামনা করি। দলগুলো যেন জনকল্যাণের হয়। দুর্নীতি, লুটপাট, হানাহানি যা আমরা এতো বছর দেখছি, সেই দোষারোপের রাজনীতিমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই। সামগ্রিকভাবে এটা আমাদের সবারই চাওয়া।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির আহমেদ আলী কাসেমী, বিকল্পধারার নেতা মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ, লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্য জোটের সহসভাপতি জসিম উদ্দিন, বিএলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের প্রমুখ।