ঢাকাগামী যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে : রেলওয়ে মহাপরিচালক

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেছেন, ঈদের আগে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য রেলওয়ে সফলভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে, রাজধানীতে তাদের ফিরতি যাত্রা যাতে নিরাপদ ও আরামদায়ক হয় তা নিশ্চিত করার জন্য ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আফজাল হোসেন বলেন, ‘ঈদের আগে ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন জেলাগামী যাত্রীদের জন্য আমরা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিষেবা নিশ্চিত করেছি এবং এখন রেলওয়ের অগ্রাধিকার হলো ঢাকায় ফিরতি যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও সময়োপযোগী পরিষেবা নিশ্চিত করা। ঈদের পরে ঢাকামুখী যাত্রীদের উন্নত পরিষেবা প্রদানের লক্ষে রেলওয়ে অতিরিক্ত কোচসহ আন্তঃনগর এবং বিশেষ ট্রেন প্রস্তুত করেছে।’
রেলওয়ে মহাপরিচালক বলেন, যাত্রী পরিষেবা, অনলাইন টিকিটিং, নিরাপত্তা এবং সময় সাশ্রয়ী সুবিধাসহ বিভিন্ন কারণে ঈদ উৎসব উপলক্ষে ঢাকায় আসা-যাওয়া করা মানুষের কাছে ট্রেনই সর্বদা পছন্দের শীর্ষে। প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার মানুষ ঈদ উদযাপন করতে ট্রেনে ঢাকা থেকে তাদের গন্তব্যে যাওয়ায় পর দীর্ঘ নয় দিনের ঈদ ছুটি শেষে রোববার (৬ এপ্রিল) সরকারি ও বেসরকারি অফিস খোলার কারণে তারা রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন।
‘রেলওয়েতে ধারণ ক্ষমতার ৩৬ হাজার আসন থাকলেও স্বল্প সময়ে প্রচণ্ড চাপ কমাতে ঈদে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট যুক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। রাজধানীতে ফেরা যাত্রীদের নির্বিঘ্ন পরিষেবা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’, যোগ করেন আফজাল হোসেন।
রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক তামান্না ইয়াসমিন বলেন, ঈদ যাত্রায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, যাত্রীদের সুবিধার্থে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় ফিরতি যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সব রেলস্টেশনে পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, আনসার এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ অতিরিক্ত বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।
এ ছাড়াও, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে রেলস্টেশনগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করেছে। কমলাপুর স্টেশনে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।
ঈদের আগে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার জন্য বৈধ টিকিট ছাড়া যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং নিরাপত্তা কর্মীরা সক্রিয়ভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন।
ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ে ১২০টি আন্তঃনগর ট্রেনের পাশাপাশি পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেনও পরিচালনা করেছে। যাত্রীদের পরিষেবা প্রদানের জন্য স্থানীয়, কমিউটার এবং মেইল ট্রেনও ছিল।