দৃষ্টিনন্দন কাতালিয়া মুন্সী বাড়ি জামে মসজিদ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের কাতালিয়া গ্রামে নির্মিত প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর দৃষ্টিনন্দন নিদর্শন কাতালিয়া মুন্সী বাড়ী জামে মসজিদটি সবার নজর কাড়ে। ২০ শতাংশ জমির উপর ২০০ বছরের মসজিদটি একই আদলে নতুন করে নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। মসজিদটি দৈর্ঘ্যে রয়েছে ৪৫ ফুট এবং প্রস্থে ৪০ ফুট।
এই মসজিদটিতে একসঙ্গে ১১টি কাতারে নামাজ পড়তে পারে ৫ শতাধিক মুসল্লি। মসজিদটির সুউচ্চ একটি মিনার (যার দৈর্ঘ্য ১০৫ ফুট) আর একটি সুবিশাল গম্বুজ আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা দেয়। কারুকার্য মন্ডিত ছোট-বড় আরও ১০টি গম্বুজ যেন মসজিদটিতে সৌন্দর্য্যের পসরা সাজিয়েছে। গ্রামীণ নির্মল বাতাসে ভেসে আসা মুয়াজ্জিনের সুললিত কন্ঠের আজানের ধ্বনি মসজিদ চত্বরে তৈরি করে এক সুমধুর পরিবেশ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদটির রয়েছে প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে কাতালিয়া মুন্সী বাড়ির কৃতিসন্তান মরহুম মুন্সেফ আশ্রাফ আলী মুন্সী নান্দনিক এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। একই বাড়ীর রিয়াজ উদ্দীন মুন্সী মসজিদের জন্য ২০ শতক জমি দান করেন। ওই বাড়ীর কৃতিসন্তান কুয়েত প্রবাসী মো: বিল্লাল হোসেন মুন্সীর উদ্যোগ ও মূল অর্থায়নে এবং গ্রামবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় ২০১৪ সালে মসজিদটি পুননির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।
গ্রামের ধনাঢ্য ও দানশীল ব্যক্তিরাও মসজিদ নির্মাণ কাজে আর্থিক সহযোগিতায় কল্পনাতীতভাবে এগিয়ে আসেন। এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হতে লেগে যায় প্রায় ৫ বছর। এ সময় মসজিদ নির্মাণ কাজের সার্বিক তদারকি করেন নির্মাণ কাজের মূল উদ্যোক্তা প্রবাসী মো: বিল্লাল হোসেন মুন্সীর শ্বশুর মরহুম আব্দুল আহাদ প্রকাশ দুখু মিয়া। ২০১৯ সালের শেষের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটির উদ্বোধন করা হয়। সম্পূর্ণ কোলাহলমুক্ত গ্রামীণ নিরিবিলি পরিবেশে অবস্থিত এ মসজিদটি দূর থেকে দেখলে মনে হবে কোনো রাজপ্রাসাদ বা জমিদারের অট্রালিকা।
মসজিদটির অপরূপ সৌন্দর্য্য ও চোখ ধাঁধানো স্থাপত্যশৈলীর কারণে এর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশ ও দেশের বাহিরে। মসজিদটি উপজেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে ইতিমধ্যে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। তাই আধুনিক স্থাপত্যশৈলির অনন্য নিদর্শন নান্দনিক এ মসজিদটি দেখতে এবং মহান আল্লাহর ইবাদত করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন বহু দর্শনার্থী। মসজিদটির দক্ষিণে রয়েছে সুবিশাল একটি পুকুর। যার দুই পাশে দু’টি ঘাটলা রয়েছে। প্রতিদিন স্থানীয় মুসল্লিরা এখানে ওযু-গোসল সহ পবিত্রতা অর্জন করে মসজিদের দিকে ইবাদতের উদ্দেশ্যে ছুটে যান। উত্তরপাশে রয়েছে তিন তলা বিশিষ্ট একটি হুজরা খানা। যার নিচ তলায় পরিচ্ছন্ন একটি ওযু ও হাজতখানা রয়েছে।
মসজিদের মোহনীয় এ সৌন্দর্য্য সকল বয়সী মানুষকে মুগ্ধ করছে। মসজিদ দেখা শেষে মুগ্ধতার আবেশ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও দর্শনার্থীরা। কেউ কেউ মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে স্থিরচিত্র ও সেলফি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন নিজ নিজ মুঠোফোনে। নির্মাণশৈলীর নান্দনিকতার কারণে মসজিদটি সাধারণ মুসল্লিদের মনিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছে।
কাতালিয়া মুন্সী বাড়ি জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা মো: জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ এ মসজিদের খেদমতে নিয়োজিত আছি। সৌন্দর্য্যমন্ডিত এ মসজিদটি দেখতে এবং এখানে নামাজ পড়তে দূরের মুসল্লিরা প্রতিদিনই ছুটে আসেন। যারা এখনো এ মসজিদটি দেখতে আসেননি, তাদের প্রতি দ্বীনি দাওয়াত রইলো। আপনার আসুন, এখানে নামাজ আদায় করুন এবং মসজিদের সৌন্দর্য্য উপভোগ করুন।