ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাজারে পতন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যে নতুন করে শুল্ক ঘোষণার পর থেকে বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস লক্ষ্য করা গেছে। এশিয়া অঞ্চলের পুঁজিবাজারও ধসের মুখে পড়েছে। নাইকি-অ্যাপলের মতো বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম ৯ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
গত বুধবার (৫ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, আমদানিকৃত পণ্যের ওপর কমপক্ষে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বাড়বে এবং দেশীয় শিল্পে নতুন গতি আসবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রসহ চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া মতো দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। ট্রাম্পের ঘোষণার আগের দিনও চাঙা ছিল এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলো। লাভের মুখ দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার সূচক সেনসেক্স ও নিফটি।
গত বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পুঁজিবাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় শেয়ার সূচক দ্রুত নামতে শুরু করে। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ৪ দশমিক ৮ শতাংশ পড়েছে। এতে বাজার থেকে ২ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্য কমেছে। ডাও জোনস সূচক ৪ শতাংশ এবং প্রযুক্তি শেয়ারভিত্তিক নাসডাক ৬ শতাংশ কমেছে।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। পতন হয়েছে ইউরোপের অন্যান্য পুঁজিবাজারগুলোতে। টোকিওর নিক্কেই (টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের স্টক মার্কেট সূচক) শুরুতে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে যায়। যদিও পরে তা কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। পতন শেষে ২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়ায়। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার পুঁজিবাজারেও হয়েছে পতন। হংকং ও সাংহাইয়ে একই প্রভাব পড়েছে। গতকাল শুক্রবার দিনের শুরুতেই এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলোতে বড় পতন দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক পড়ে ১ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক কমে ১ দশমিক ৪ শতাংশ।
গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় হোয়াইট হাউসে পাল্টা বা পারস্পরিক শুল্ক নিয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বাংলাদেশের পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।