অন্য জাতের যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক, পশ্চিমবঙ্গে আদিবাসী নারীকে গণধর্ষণ-জরিমানা

অন্য জাতের যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় শাস্তি হিসেবে এক স্বামীহারা আদিবাসী নারীকে গণধর্ষণ এবং সালিশি সভা বসিয়ে জরিমানা ধার্য করার অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার মহম্মদবাজারে। এ ঘটনায় ওই গ্রামের মোড়লসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই আদিবাসী নারীর দুই সন্তান রয়েছে। কয়েক বছর আগে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়। তারপর এলাকার এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁর। তবে ওই যুবক অন্য জাতের বলে তা ভালো চোখে দেখেনি গ্রামবাসীর একাংশ।
পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে ওই নারী জানান, গত ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার গ্রামে একটি পূজা উপলক্ষে সন্ধ্যায় স্থানীয় শেওড়াকুড়ি মোড় থেকে ওই যুবকের সঙ্গে গ্রামে ফিরছিলেন তিনি। সে সময় গ্রামের কিছু লোক তাঁদের ধরে স্থানীয় একটি ক্লাবে নিয়ে মারধর করে। এরপর রাত আড়াইটার দিকে ওই ক্লাবের পাঁচ সদস্য পাশের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে তাঁকে গণধর্ষণ করে। পরদিন সকালে তাঁকে ও তাঁর প্রেমিককে ক্লাব থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এরপর স্থানীয় এক আদিবাসী নেতা ওই নারীর পাশে দাঁড়ান। এ ঘটনায় আদিবাসীদের সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহলের সম্পাদক নিত্যানন্দ হেমব্রম জানান, পুরো ঘটনার পেছনে পাথর খাদান মাফিয়া ও কাঁচা টাকার ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরদিন গত বুধবার সকালে গ্রামে সালিশি সভা বসিয়ে বিষয়টি ফয়সালা করার সিদ্ধান্ত নেন গ্রামের মোড়ল-মাতবররা। সেখানে উল্টো ভুক্তভোগী নারীকে ১০ হাজার রুপি ও তাঁর প্রেমিককে ৫০ হাজার রুপি জরিমানা ধার্য করা হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের পরিবারের তরফ থেকে দাবি করা হয়, সেদিন রাতে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি।
তবে গত শনিবার সন্ধ্যায় ওই আদিবাসী নারীকে স্থানীয় সিউড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা করা হলে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার শ্যাম সিংহ বলেন, ‘নির্যাতিত নারী পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল রোববার দুপুরে ওই গ্রামের এক মোড়লকেও গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।’
এ মামলার সরকারি আইনজীবী শুভাশিস চট্টোপাধ্যায় জানান, অভিযুক্তদের সাত দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পাশাপাশি নির্যাতিত নারীর গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।