চীন সীমান্তে উত্তেজনা, ভারতজুড়ে চীনা পণ্য বর্জনের হিড়িক

ভারত-চীন সীমান্তে সেনা উত্তেজনা প্রশমিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার থেকে গালওয়ান ভ্যালির নিকটবর্তী এলাকায় ভারত-চীন সেনার মধ্যে সীমান্ত ইস্যুতে আলোচনা চলছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেও আলোচনা হয়েছে বলে ভারতীয় সেনা সূত্রে জানা গেছে।
ভারতের অভিযোগ, শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যেও সীমান্তে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে চীন। ভারতের অভিযোগ, স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গালওয়ানে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ক্রমেই সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে চীন। সীমান্ত এলাকায় নির্মাণকাজের জন্য কাঁচামাল মজুদ করছে চীন। সেই ছবিও দেখা গেছে। এমনকি সীমান্ত এলাকায় বেশ কয়েকবার গাড়ি যাতায়াত করতেও দেখা গেছে। সেগুলোতে চীনের সেনা জওয়ানরা যাতায়াত করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি, প্যাংগং সো তেও চীনে সেনার বাড়বাড়ন্ত ঘটছে।
অন্যদিকে, চীনা সেনার মোকাবিলায় সীমান্তে সেনা বাড়াচ্ছে ভারতও। ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে ভারত চীন সীমান্ত।
জানা গেছে, পশ্চিম লাদাখের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর চীনা ড্রোন ও হেলিকপ্টার উড়ছে। এদিকে বাড়ছে ভারতের সেনা প্রস্তুতিও। সীমান্ত এলাকায় ভারত একদিকে যেমন সেনা বাড়িয়েছে, তেমনি প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিমানবাহিনীকেও। দুই দেশের সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকায় তাবু তৈরি করছে। সব মিলিয়ে দুই দেশের সেনাবাহিনী হাই অ্যালার্টে রয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।
গালওয়ানের তাৎপর্য হলো, ১৯৬২ সালে এখানেই ভারত-চীনের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিলো। চীন ও ভারতের মধ্যে যে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল রয়েছে অর্থাৎ এলএসি সেখানেই যুদ্ধ হয়। সীমান্তের অন্যদিকে, কাশ্মীরের সেই অংশ রয়েছে যাকে আকসাই চীন বলা হয়। খুব দুর্গম জায়গা। সারা বছর প্রচণ্ড ঠাণ্ডা থাকে এখানে। এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা কঠিন।
এদিকে গালওয়ানে সংঘাতের পর ভারতজুড়ে উঠেছে চীনা দ্রব্য বর্জনের ডাক। সেই প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন ভারতের ব্যবসায়ীরাও। চীনকে কোণঠাসা করতে ভারত চীন সেনা সংঘর্ষের পরেই চীনকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করছে ভারত। ৫-জি বাজারের মতো বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে চীনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণসহ ভবিষ্যতে চীনের বিনিয়োগকেও নিষিদ্ধ করা হতে পারে। ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভারতে চীনা পণ্যের রমরমা ব্যবসার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে চীনা সংস্থার সঙ্গে মোটা অঙ্কের চুক্তি বাতিল করেছে ভারতীয় রেলের ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর অব ইন্ডিয়া লিমিটেড।
কেন্দ্রের তরফে ভারতের ভারত সঞ্চার লিগম লিমিটেডকেও (বিএসএনএল) চীনা পণ্য ব্যবহার করে আপগ্রেডেশন বন্ধ করতে বলা হয়েছে। ভারতের সেলিব্রিটিদের উদ্দেশে দেশটির বণিক সমাজ বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, ভারতের বিনোদন ও ক্রীড়া জগতের তাবড় ব্যক্তিত্ব অমিতাভ বচ্চন, এম এস ধোনি, শচীন তেন্ডুলকর এবং অক্ষয় কুমাররা যেন চীনা পণ্যের প্রচারে এগিয়ে না আসেন। ভারতের রয়েছে ৭ কোটি মানুষের ব্যবসায়ী সমাজ এবং ৪০ হাজার ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান।