নন্দীগ্রামে মমতা-শুভেন্দু তুমুল লড়াই

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলে দুইশর বেশি আসনে তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা দেখা গেলেও দলটির প্রধান মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আসনে বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে তাঁর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।
আজ রোববার ১৫ রাউন্ডের ভোট গণনা শেষে নন্দীগ্রামে তৃণমূল সুপ্রিমো প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারীর চেয়ে সাড়ে চার হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন। এ আসনে মোট ১৭ রাউন্ডে ভোট গণনা হবে বলে আনন্দবাজার জানিয়েছে।
এক সময় মমতার ‘লেফটেনেন্ট’ হিসেবে পরিচিত শুভেন্দু এবারই প্রথম পদ্মফুল নিয়ে লড়ছেন। ২০১৬ সালে এ আসনে ঘাসফুলের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হওয়া শুভেন্দু গত বছর ডিসেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন।
মমতার সরকারে পরিবহন ও পরিবেশ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি লোকসভায় তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করা শুভেন্দু ১৯৯৫ সালে কংগ্রেসের হয়ে কাউন্সিলর নির্বাচনে জেতেন।
এবার ভোটের আগে মমতাকে হারানোর ‘চ্যালেঞ্জ’ দিয়েছিলেন শুভেন্দু। তৃণমূলনেত্রী কলকাতায় নিজের আসন ছেড়ে নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণও করেন।
সকালে ভোট গণনা শুরুর পর অনেকক্ষণ শুভেন্দুই এগিয়ে ছিলেন। এক পর্যায়ে তার সঙ্গে মমতার ব্যবধান আট হাজার ছাড়িয়ে যায়।
এরপর থেকে শুরু হয় দুই প্রার্থীর ‘সাপ-লুডু’ খেলা। একাদশ রাউন্ডের শেষে দেখা যায় মমতা তিন হাজার ৩২৭ ভোটে এগিয়ে গেছেন। পরের রাউন্ডেই পিছিয়ে যান সাড়ে চার হাজার ভোটে।
ভারতীয় পত্রিকাগুলো বলছে, পশ্চিমবঙ্গের দুইবারের মুখ্যমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত এই আসনে হেরে গেলে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাকে ঘিরে বিরোধীদের বৃহত্তর জোটের যে পরিকল্পনা দানা বাঁধছিল, তা মুখ থুবড়ে পড়বে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, সকাল থেকেই কালীঘাটের বাড়িতে বসে গণনায় চোখ রেখেছেন মমতা। ঘনিষ্ঠদের তিনি বলেছেন, তিনি আত্মবিশ্বাসী। ইভিএমের ভোট গণনা শুরু হলেই তার পাল্লা ভারি হবে বলেও ইঙ্গিত ছিল তার।