লাদাখ থেকে সেনা সরাচ্ছে চীন, দাবি ভারতের

গালওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনাদের হাতে ২০ ভারতীয় সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিশোধ নিতে মরিয়া ভারত লাদাখে যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে। চীনও পিছু হটেনি, বরং উত্তেজনা বাড়িয়ে সেনা বৃদ্ধি করে চলেছে।
তবে হঠাৎ করে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, লাদাখের তিনটি অঞ্চলেই গত তিনদিনে চীনা সেনাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পূর্ব লাদাখে সংঘাতের তিনটি ক্ষেত্র থেকে বেশ কিছু সেনা সরিয়ে নিয়েছে চীন। তবে তাদের নির্মাণ এবং আধা-স্থায়ী কাঠামোগুলো এখনো রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সেখানে এখনো বেশ কিছু চীনা সেনা অবস্থান করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
গালওয়ান উপত্যকার পাশাপাশি গোগরা হট স্প্রিং এবং প্যাংগং লেকের কাছে ফিঙ্গার এরিয়াতেও চীনের সেনা কমিয়ে আনার খবর পাওয়া গেছে।
পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলএসি) উত্তেজনা কমাতে গত ২২ জুন দু’পক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। এরপরেই চীনের পক্ষ থেকে সেনা কমানোর প্রক্রিয়া নজরে এসেছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে ২২ জুনের ওই বৈঠকে চীনের স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। পরবর্তী পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব গৃহীত হতে পারে। ২২ জুনের ওই বৈঠকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ওই তিন অঞ্চলে সেনা টহলদারি হবে না, সামরিক যানবাহন চলাচল করবে না এবং নতুন করে কোনো নির্মাণ কাজও হবে না।
এদিকে সম্প্রতি বেশ কিছু স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চীন নতুন ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। গত ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ভারতের ২০ সেনা সদস্য প্রাণ হারান। ওই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে গালওয়ান উপত্যকাকে নিজেদের বলে দাবি করেছে বেইজিং। তবে চীনের এই দাবিকে অগ্রহণযোগ্য বলেছে ভারত।