ছেলেকে প্রেম থেকে ফিরিয়ে আনতে পাগলা মসজিদে মায়ের চিঠি

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে খোলা হয়েছে দানবাক্স। শতশত ভক্তের দান ও অর্ঘ্যের ভেতর থেকে উঠে এসেছে এক মায়ের চিঠি, যেখানে তিনি তার ছেলেকে প্রেম থেকে ফিরিয়ে আনা এবং মেয়েকে বিসিএসের একটি আসন ভিক্ষা চেয়েছেন।
দানবাক্সে মানুষ টাকা, স্বর্ণ বা বৈদেশিক মুদ্রা দিলেও এই চিঠিতে ছিল শুধু মায়ের দুশ্চিন্তা আর সন্তানের জন্য বুকভরা প্রার্থনা। চিঠির শুরুতে মায়ের আকুতি, ‘প্রিয় পাগলা বাবা, আমি আপনার একজন ভক্ত।’ এরপর তিনি তার ছেলেকে প্রেমের বাঁধন থেকে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানান, যাতে তার ছেলে কলঙ্কের হাত থেকে রক্ষা পায়।
শুধু ছেলের জন্যই নয়, মেয়ের ভবিষ্যতের জন্যও মা আবেদন করেছেন—‘আমার মেয়েটারে স্পেশাল বিসিএসের একটা সিট ভিক্ষা নিয়েন। মেয়েটারে কষ্ট দিয়েন না, নিরাশ কইরেন না।’ চিঠির সরল ও আঞ্চলিক ভাষা যেন বাংলার মায়েদের প্রতিচ্ছবি, যারা সন্তানের সুখ, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের জন্য ঈশ্বরের কাছে নতজানু হয়ে প্রার্থনা করেন।
আজ শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টায় পাগলা মসজিদের ১৩টি দানসিন্দুক খোলার কাজ শুরু হয়। সেখান থেকে রেকর্ড ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। দানগণনায় চার শতাধিক মানুষ অংশ নেন, যার মধ্যে ছিলেন মসজিদ কমপ্লেক্সের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মাদ্রাসার ছাত্র এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল দানবাক্স খোলা হলে ৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গিয়েছিল। এবার নতুন তিনটি দানবাক্স যুক্ত হওয়ায় দানের মোট সংগ্রহ শত কোটির ঘর ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বর্তমানে পাগলা মসজিদের ১৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৯০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা জমা আছে, যা গরিব, অসহায় ও অসুস্থদের জন্য ব্যয় করা হয়।
দানবাক্স খোলার সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সেনাবাহিনী এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।