ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো দুইদিনব্যাপী এন্ট্রাপ্রেনারশিপ ফেস্ট ৪.০

রাজধানীর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো বছরের এন্ট্রাপ্রেনারশিপ ফেস্ট ৪.০ (EF 4.0)। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত ক্লাব ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এন্ট্রাপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (BUEDF) উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন জমজমাট হয়ে ওঠে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, উদ্যোক্তারেট প্রতিনিধিদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে।
এন্ট্রাপ্রেনারশিপ ফেস্টের প্রথম দিনে ক্যাম্পাস ভরে উঠে উৎসবমুখর পরিবেশে।
উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী আর শিল্পনেতাদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে এন্ট্রাপ্রেনারশিপ ফেস্ট হয়ে উঠে উদ্ভাবন আর অনুপ্রেরণার এক অনন্য মঞ্চ। প্রথম দিনের বিশেষ সেগমেন্ট হিসেবে আয়োজন করা হয় বহুল প্রতীক্ষিত Entrepreneurs Talk 2.0 - Obstacles to Opportunities। এ সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন স্টার্টআপ বাংলাদেশের পরিচালক তানভীর আলী। আলোচনায় যোগ দেন সফল তরুণ উদ্যোক্তা— ‘ট্যাকেল’র প্রতিষ্ঠাতা অনুপম সিয়াম, মেড ইজির প্রতিষ্ঠাতা আরেফিন জামান, ‘ফসল’র প্রতিষ্ঠাতা সাকিব হোসেন এবং সেবা প্ল্যাটফর্মের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এলমুল হক।
উদ্যোক্তা জীবনের চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং ব্যর্থতাকে সুযোগে রূপ দেওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা আলোচনায় আসে। শিক্ষার্থীরা সরাসরি শুনেছে Y Combinator থেকে Forbes 30 Under 30 পর্যন্ত যাত্রার গল্প। প্রধান অতিথি স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর এবং কনস্টেলেশন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান তানভীর আলী বললেন, এখানে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম তরুণ কিন্তু সম্ভাবনায় ভরপুর। টাকার থেকেও বেশি দরকার সাহস আর পরিষ্কার লক্ষ্য। বিনিয়োগকারীরা কাজের ফলাফল দেখে এগিয়ে আসে।
ফ্যাশলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাকিব হোসেন জানান, কীভাবে তিনি মাত্র ১৯ বছর বয়সে কৃষি-সাপ্লাই চেইন প্ল্যাটফর্ম শুরু করেন।
একজন প্যানেলিস্ট বলেন, ব্যর্থতার ভয়, প্রত্যাখ্যানের ভয়, সমাজ কী বলবে তা নিয়ে ভয় কখনও যায় না। কিন্তু ভয় তোমার শত্রু নয়, এটা তোমার জ্বালানি।
মেডইজির সহ-প্রতিষ্ঠাতা আরেফিন জামান ব্যক্তিগত সংগ্রাম থেকে কীভাবে পাঁচ লাখ বাবহারকারীর হেলথকেয়ার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন, তা শেয়ার করেন।
সেবা প্ল্যাটফর্ম লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইলমুল হক বলেন, পারফেক্ট প্ল্যান কখনও হয় না। তৈরি কর, পরীক্ষা কর, মানিয়ে নাও— এটাই চক্র। সাফল্য মানে ব্যর্থতা এড়ানো নয়, তা থেকে দ্রুত শেখা।
দ্বিতীয় দিনটি রূপ নেয় উদ্যোক্তাদের উৎসবে। ক্যাম্পাস ভরে ওঠে সৃজনশীলতা আর ব্যবসায়িক ভাবনায়। BUEDF-এর উদ্যোগে সাজানো হয় ৩০টিরও বেশি স্টল, যেখানে শিক্ষার্থীরা উপস্থাপন করেন তাদের উদ্ভাবনী পণ্য, স্টার্টআপ আইডিয়া এবং বাস্তবসম্মত সমাধান। প্রতিটি স্টল ছিল ভিন্ন কোথাও প্রযুক্তি, কোথাও লাইফস্টাইল পণ্য, আবার কোথাও নতুন উদ্যোক্তা ধারণা। ক্যাম্পাস জুড়ে ছিল নানা ধরনের স্টল। নেক্সট ক্রাম্ব, রিচ অ্যান্ড ক্রিম, মুরগির ডিম, আর মাছ সমাচারের মতো খাবারের স্টল থেকে শুরু করে প্রতীকৃতির ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল পণ্য, আর হারমানের পারফিউম স্টলের সুগন্ধি সবাইকে মুগ্ধ করে।
দিনজুড়ে শিক্ষার্থীরা নেটওয়ার্কিং করেন বিনিয়োগকারী, মেন্টর ও শিল্পনেতাদের সঙ্গে।
সবশেষে অনুষ্ঠিত হয় জাঁকজমকপূর্ণ সমাপনী অনুষ্ঠান। স্বীকৃতি দেওয়া হয় ফেস্টের সফল আয়োজনের পেছনে অক্লান্ত পরিশ্রম করা ৬০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীকে।