চার শ বছরের প্রাচীন পাকুন্দিয়ার শাহ মাহমুদ জামে মসজিদ

মসজিদ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য একটি পবিত্র স্থান। একটি মসজিদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য যদি প্রাচীন কোনো সময়ের হয়ে থাকে তাহলে সবার কাছে তার গুরুত্ব আরো বেশি হয়ে থাকে। তেমনি একটি ব্যতিক্রমী মসজিদ হচ্ছে শাহ মাহমুদ মসজিদ।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর গ্রামে অবস্থিত অতি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক মসজিদ এটি। ১৬৬৪ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শায়েস্তা খাঁর আমলে এক গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদ নির্মাণ করেন বণিক শেখ মাহমুদ শাহ। তার নামেই মসজিদটির পরিচিতি লাভ করে।
মসজিদটির চার কোনায় চারটি বুরুজ ও একটি বিশাল গম্বুজ রয়েছে। দু'পাশে দুটি সরু মিনার ও ভেতরে পশ্চিমের দেয়ালে তিনটি মেহরাব রয়েছে। মসজিদের ভেতর ও বাইরের পোড়ামাটির চিত্রফলক এবং পূর্বের দেয়ালে তিনটি দরজা রয়েছে। এই মসজিদের ভেতরে একসঙ্গে ২৫ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এই মসজিদটি পাকুন্দিয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে মঠখোলা-মির্জাপুর-পাকুন্দিয়া সড়কের পাশে অবস্থিত।
মসজিদের বালাখানার প্রবেশদ্বারটি ছনের কুটিরের আকৃতির হওয়ায় মসজিদটির আকর্ষণ ও সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বালাখানার মাঝখান দিয়ে প্রবেশ করে মসজিদে যেতে হয়। ৪০০ বছর আগে নির্মিত এই মসজিদে রয়েছে মুঘল শিল্পরীতি ও স্থানীয় শিল্পরীতির নিপুণ সমন্বয়। মসজিদের বালাখানার ঠিক সামনে রয়েছে বিশালাকৃতির পুকুর।
মসজিদের ইমাম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাপ-দাদারা এই মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন। এই মসজিদটির কিছু সংস্কার কাজ করা প্রয়োজন। আমি আশা করি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে মসজিদটির সংস্কার করা হবে। আর তা না হলে এই মসজিদটি এক সময় বিলীন হয়ে যাবে।’
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে আসে। প্রত্নতাত্বিক অধিদপ্তরের আওতায় আনার পর এই মসজিদের সংস্কার কাজ করা হয়েছিল কিন্তু পুরো মসজিদটি সংস্কারে ব্যর্থ হয়। মসজিদটির দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। দেয়ালের আস্তরনে জমাট বেধেঁছে শেওলা।
এলাকাবাসীর দাবী, প্রাচীন এই পুরাকীর্তিটি যেন দ্রুত যথাযথ সংস্কার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।