মেসি যেন জীবন্ত এক বই

পেলে ও ম্যারাডোনাকে নিয়ে সর্বকালের সেরার তর্কটা কখনোই থামবে না। কারও কাছে পেলে, কারও চোখে ম্যারাডোনা সেরা। অথচ দুজনই সেরা মানেন অন্য একজনকে। কিংবদন্তি আলফ্রেডো ডি স্টেফানোকে বলা হয় বিশ্বকাপ না জেতাদের মধ্যে সেরাদের সেরা। পেলে-ম্যারাডোনার চোখেও তিনিই সবার ওপরে।
রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে নিয়ে পেলে বলেছিলেন, ‘লোকে পেলে না ম্যারাডোনা, সেই তর্কে জড়ায়। সেরা হলেন ডি স্টেফানো। তিনি পরিপূর্ণের চেয়ে বেশি।’ ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় ডি স্টেফানো সেরা ছিলেন। তিনি সবার ওপরে, এমনকি আমারও।’
গত শতাব্দীতে অসংখ্য ফুটবলার এসেছেন, যাদের ছোঁয়ায় খেলাটি হয়ে উঠেছে সবচেয়ে জনপ্রিয়। ইতিহাসে তারা অমর হয়ে থাকবেন। একবিংশ শতাব্দীতে যদি চোখ বোলাই, শুরুর দিকে এখানেও রাজত্ব করে গেছেন বহু কিংবদন্তি। তবে ২০১০ এর দিক থেকে যদি ভাবা হয়, একটি নামই আসবে—লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।
প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এসেছেন। লম্বা সময় চলেছে দুজনকে নিয়ে সেরার তর্ক। সমকালের সেরা হিসেবে অমীমাংসিতই থেকে যেত তা। ২০২২ এ পাল্টে যায় সব। বিশ্বকাপ জিতলেন লিও। সমকালের তর্কটা থামিয়েছেন। তৈরি করেছেন নতুন বিতর্ক। মধুর বিতর্ক বলা চলে। পেলে-ম্যারাডোনার চিরকালীন সেরার বিতর্কে জায়গা করে নিলেন মেসি। সর্বকালের সেরা কে প্রশ্নে তিন ভাগে ভাগ হয়ে যায় ফুটবল দুনিয়া। যেখানে এই প্রজন্মের ভক্তদের কাছে মেসির ওপর কেউ নেই।
ডি স্টেফানোর কথা কেন আনা? মেসি যদি বিশ্বকাপ না জিততেন, তখন বোধহয় তৈরি হতো ভিন্ন এক বিতর্ক। বিশ্বকাপ না জেতাদের মধ্যে কে সেরা? মেসি নিজেকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, যেখানে ইতিহাসের এলিট ক্লাবে তার প্রবেশ নিশ্চিত ছিল।
মেসি যেন একটা বই। বুকশেলফে সবচেয়ে প্রিয় যে বইটা, সেই বইয়ের প্রতিটি শব্দ আমাদের মুখস্থ। আমরা সেটি অসংখ্যবার পড়ি। মন ভালো থাকলে পড়ি। মন খারাপ থাকলে পড়ি। পড়ে পুলকিত হই। মন হালকা হয়। আমরা তাতে আত্মস্থ হই। মেসি তেমনই একটি বই। ডায়েরিও বলা যেতে পারে৷ পুরুষদের কাছে প্রেমিকাতুল্য, নারীদের কাছে প্রেমিকও হয়ে ওঠেন তিনি। যিনি একসুতোয় গাঁথেন সবাইকে, যার গোটা গল্প আমরা জানি।