জনগণের কাছে ভাষণের বিষয়বস্তু চাইলেন মোদি

আগামী ১৫ আগষ্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীনতা দিবসের দিন দিল্লির লালকেল্লা থেকে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই ভাষণের বিষয়বস্তু নির্ধারণ করে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জনগণের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে বলা হয়েছে, ‘লালকেল্লা থেকে আপনাদের চিন্তা প্রতিধ্বনিত হবে। ১৫ আগষ্ট প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নিয়ে আপনাদের ভাবনা কী? আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নিন।’
রাজনৈতিক মহলের মতে, দেশে মোদিবিরোধী আন্দোলনের সুর যখন বিরোধীরা তীব্র করার চেষ্টা করছে, ঠিক সেই সময়ে দেশবাসীর আরও কাছাকাছি আসার পরিকল্পনা নিলেন মোদি। লালকেল্লার ভাষণে দেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে কী বিষয়ে বক্তব্য শুনতে চান তা জনগনের উপর ছেড়ে দিয়ে জনতার মতামতকেই প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করছেন মোদি। তিনি আরও একবার বুঝিয়ে দিতে চাইছেন, তাঁর সরকার জনগণের সরকার।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে টুইট করার পর বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। কেউ লিখেছেন, ‘আপনি স্কুল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের টিকাকরণের বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা ঘোষণা করুন। শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের কথোপকথনের প্রয়োজন আছে, দেখা হওয়ার প্রয়োজন আছে। ওদের স্কুলে ফেরা দরকার। ফলে ভবিষ্যতের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় উপহার হবে।’
আবার কেউ দাবি করেছেন, ‘ভারতের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে দাঁড়িয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধি। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের জনসংখ্যা ১৫০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে লালকেল্লা থেকে আপনি কিছু বলুন।’
আবার কেউ কেউ লালকেল্লা থেকে প্যাগাসাস কাণ্ড, রাফাল তদন্ত নিয়েও প্রধানমন্ত্রীকে কথা বলার জন্য বলেছেন। অনেকে আবার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকারত্ব, করোনায় চার লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু, টিকাকরণের ধীর গতি, দুর্নীতি, কোভিড পরবর্তী সময়ে শ্রমিকদের অবস্থা নিয়েও কথা বলার দাবি তুলেছেন।
এদিকে রাজনৈতিক মহল মনে করছেন, হয়তো বিভিন্ন দাবির মধ্য থেকে সবথেকে বেশি দাবি ওঠা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। তবে তার আগে এই ধরণের পদক্ষেপ দেশে এই প্রথম সেটা বলাই যায়।