ভারত-শ্রীলঙ্কার মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত

শ্রীলঙ্কায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাষ্ট্রীয় সফরে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সফরকে প্রতিবেশী অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর এএফপির।
আজ শনিবার (৬ এপ্রিল) কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেন। এ সময় ছোট দেশ হিসেবে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি ‘গভীর ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব’র জন্য মোদিকে দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা প্রদান করেন।
পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় শ্রীলঙ্কার সামরিক কর্মীদের ভারতে প্রশিক্ষণ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি বিনিময়ের ব্যবস্থা করা হবে।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি আমাদের নিরাপত্তা স্বার্থ একই সূত্রে গাঁথা। আমাদের নিরাপত্তা পরস্পর নির্ভরশীল এবং আন্তঃসংযুক্ত।’
এ সময় দিশানায়েকে ভারতের বিশ্বশক্তি হিসেবে উত্থানের প্রশংসা করেন। তিনি নরেন্দ্র মোদিকে বলেন, ‘আমি আপনাকে আমাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছি যে, শ্রীলঙ্কার ভূখণ্ড ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।’

এর আগে, ভারত কলম্বোর প্রধান সমুদ্রবন্দরে চীনা সাবমেরিন এবং গবেষণা জাহাজ নোঙরের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। ২০১৪ সালের পর থেকে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করার পর শ্রীলঙ্কা চীনা সাবমেরিনগুলোকে আর অনুমতি দেয়নি। গত বছর নয়াদিল্লি অভিযোগ করেছিল যে, চীনা জাহাজ ভারতের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এর পরেই কলম্বো বিদেশি গবেষণা জাহাজ নিষিদ্ধ করে।
কলম্বোতে পৌঁছানোর পর শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি দিশানায়েকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তোপধ্বনির মাধ্যমে স্বাগত জানান। গত বছর বামপন্থী এ নেতা ক্ষমতায় আসার পর মোদিই প্রথম বিদেশি কোনো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কলম্বো সফর করেন।