যমুনায় ফের বন্ধ ইউরিয়া সার উৎপাদন

দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফের উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।
গ্যাস সংকটে ১৩ মাস ২৩ দিন কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকার পর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ শুরু করে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। পরের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি চুল্লিতে গ্যাস সংযোগ বা ফায়ারিংয়ের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানা চালু করা হয়। তবে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ৬০ ভাগ হারে সার উৎপাদন শুরু হয় এ কারখানায়। কিন্তু উৎপাদনে থাকা অবস্থায় মাত্র চার দিনের মাথায় কারখানার অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।
যমুনা সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুসলেহ উদ্দিন জানান, কারখানাটি অনেক দিন বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংযোগ দেয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। গতকাল বুধবার রাতে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টের ভাল্বে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সার উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ত্রুটি সারিয়ে আবারও সার উৎপাদন শুরু করতে কাজ চলছে। তবে কতদিনের মধ্যে উৎপাদন শুরু হবে তা বলা যাচ্ছে না। কাজ শেষ হলেই যেকোনো সময় আমরা ফের উৎপাদনে যেতে সক্ষম হব।
প্রতিদিন এক হাজার ৭০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে ১৯৯১ সালে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করে দেশের অন্যতম দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা। তবে গ্যাসের চাপের স্বল্পতা ও বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন নেমে আসে এক হাজার ২৫০ মেট্রিক টনে। জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলার ১৬২টি উপজেলায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) প্রায় এক হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার সরবরাহ করে থাকে যমুনা সার কারখানা।