ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা চলছে : সালাহউদ্দিন আহমদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, কোনো না কোনো পক্ষ ফ্যাসিবাবিরোধী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে যে ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। আমরা রাজনৈতিক দলগুলো তর্ক করছি, বিতর্ক করছি, সংস্কারের জন্য আলাপ-আলোচনা করছি কিন্তু নির্বাচনকে নিয়ে যেন দু-একটা পক্ষ ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ‘রাষ্ট্রীয় মদদে মানবতাবিরোধী অপরাধের কৌশল উন্মোচন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনার প্রাঙ্গণে ‘আয়নাঘর এর কুশীলবদের গ্রেপ্তার চাই’, ‘খুনির ঠিকানা সেনানিবাস, বিচারহীন রাষ্ট্র নিশ্বাস’, ‘প্রশ্ন একটাই—খুনি কেন আজও মুক্ত’, ‘আগস্টের পর খুনি কীভাবে বর্ডার পার’সহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা দেয়। সেমিনারে মধ্যভাগে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমার ছবিটা আজকে ওখানেই থাকার কথা ছিল। ফটো নিয়ে স্বজনরা ওখানে বসে আছেন। আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান ফোটো না হয়ে আজকে আমি এখানে জিন্দা আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি। আমার সহকর্মীদের মধ্যে অনেকেই সেই সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেনি এখনও। আয়নাঘর, কেন যেন নেত্র নিউজ নাম দিলো, সেটা সবার মনে লাগে গেল এবং এটা গ্রহণযোগ্য হয়ে গেল। কিন্তু আয়নাঘরে তো আয়না নেই! আয়নাঘরে যমদূত ছিল, আয়নাঘরে মৃত্যুর পরোয়ানা ছিল, সেই আয়নাঘরে আমরা ছিলাম।’
এ সময় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আজকের এই অধিবেশনে গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবারের কেউ নতুন করে যোগদান করেননি। এটা একটা সুসংবাদ। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী দিনের রাজনীতিবিদরা যেন এটা নিশ্চিত করে, ভবিষ্যতে যেন গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবারের কাউকে এ রকম কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হতে হয়। আসলে সে জন্যই অনবরত সংগ্রাম করে যাচ্ছি আমরা গণতন্ত্রের সংগ্রাম।’ তিনি বলেন, ‘আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আপনাদের সামনে এই কথা বলতে পারি, যদি জনগণ আমাদেরকে ম্যানডেট দেয়, ইনশাআল্লাহ, গুম প্রতিরোধের জন্য, গুমের সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন করার জন্য প্রথমেই আমাদেরকে যা যা করতে হয়: আইন প্রণয়ন এবং সেটা কার্যকর করার জন্য, সব কিছু করা হবে। আমরা সেই বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছি, যে বাংলাদেশে কোনো দিন ঘুমের শিকার হয়ে কোনো ব্যক্তিকে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে না।
সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন মায়ের ডাকের সংগঠক সানজিদা ইসলাম। এতে বক্তব্য দেন ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা হুমা খান, মানবাধিকারকর্মী সারা হোসেন, মানবাধিকারকর্মী ও গুম কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব।
এসময় আরও বক্তব্য দেন গুমের শিকার বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর, বিএনপির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সহকারী সদস্যসচিব নাসরীন সুলতানা, সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সাইয়্যেদ আবদুল্লাহ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দপ্তর সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত প্রমুখ।