ঘর থেকে তুলে নিয়ে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ, মামলা

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় ঘর তুলে নিয়ে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। আজ রোববার অজ্ঞাত তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ওই শিক্ষার্থীর বাবা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা জানান, তিনি প্রায় ১০ মাস আগে লেবানন থেকে দেশে এসে ব্যবসা শুরু করেন। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে লেবাননপ্রবাসী। গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তাঁর মেয়ে তার দাদির সঙ্গে টিনের বেড়ার একই বিছানায় ঘুমায় এবং তিনি তাঁর দোকানে ঘুমান। রাত ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে অজ্ঞাত তিন যুবক কৌশলে টিনের ঘরের দরজার শেকল খুলে ঘরে ঢুকে দাদির মুখ ও পা বেঁধে ফেলে। পরে ঘুমিয়ে থাকা ওই শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশী নয়ন, জামাল ও তার মা তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দোকান থেকে ডেকে তুলে ঘটনার বিস্তারিত বলেন। পরে তিনি তারা মেয়েকে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। এর এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাড়ির পাশে মসজিদের কাছ থেকে মেয়েকে আসতে দেখেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার মেয়ে জানায় যারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল তাদের তিনজনের মধ্যে একজন লুঙ্গি, শার্ট পরা এবং অপর দুজন খালি গায়ে লুঙ্গি পরা ছিল। ছুরি দিয়ে ভয় দেখিয়ে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায়। রাত ৩টার দিকে নয়াসাঙ্গুন পূর্বপাড়া থেকে ঘোষেরকান্দি সড়কের রফিকুল মেম্বারের পানের ক্ষেতের পাশে কাঁচা রাস্তার উপর শার্ট-লুঙ্গি পরা ব্যক্তি অপর দুই ব্যক্তির সহায়তায় তাকে ধর্ষণ করে।
মেয়েটির বাবা আরও জানান, প্রতিবেশী কাদির মাস্টারের ছেলে মোক্তার হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রুতা রয়েছে। তাঁর ধারণা তিনি এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে মোক্তার পলাতক রয়েছেন।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলম চাঁদ জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। মাদ্রাসাছাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে পুলিশের একাধিক টিম এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।