রংপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১

দোকান মালিক ও ভাড়াটিয়ার দ্বন্দ্বের জের ধরে রংপুরের বদরগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাভলু সরকার (৫০) নামে একজন মারা গেছেন। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির তিন নেতাকে শোকজ করেছে জেলা বিএনপি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বদরগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে ইশতিয়াক বাবুর একটি দোকান জাহিদুল হক জোয়ারদার দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন। চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ভাড়াটিয়া দোকান ছেড়ে না দেওয়ায় গত বুধবার ইশতিয়াক দোকানটির সামনে ব্যারিকেড দেন ও ভাড়াটিয়া জাহিদুল হককে মারধর করেন। এর প্রতিবাদে আজ সকাল ১১টার দিকে শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সভা করতে গেলে ইশতিয়াকের পক্ষে বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকারের লোকজন আক্রমণ চালায়। এ সময় তারা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে ও প্রতিবাদ কর্মসূচি ভন্ডুল করে দেয়।
পরে বদরগঞ্জের কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপিনেতা শহীদুল হক মানিকের সমর্থকরা দোকান ভাড়াটিয়ার পক্ষ নিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালায়। ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় উভয় গ্রুপ তীর-ধনুক, হাসুয়া, রামদা, বল্লম ও লাঠিসোটা ব্যবহার করে। এ সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ করা হয়। এদের মধ্যে গ্লোবাল টেলিভিশনের নুরুন্নবী নুরের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে বদরগঞ্জ প্রেসক্লাবেও হামলা করা হয়।
সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের কয়েকজনকে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেলে আহত লাভলু সরকারের মৃত্যু হয়। তিনি ওই উপজেলার মদুপুর ইউনিয়নের রাজারামপুর গ্রামের মহসিন আলীর ছেলে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সংঘর্ষের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বদরগঞ্জ পৌর এলাকার সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সতর্ক অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সবাইকে শান্ত থাকতে মাইকিং করা হয়।
রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকু জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় বদরগঞ্জের তিন বিএনপিনেতাকে শোকজ করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর মানিক ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক চেয়ারম্যান শহীদুল হক মানিককে শোকজ করা হয়। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, বিএনপিনেতা মোহাম্মদ আলী সরকার ও ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল হক মানিকের সমর্থকরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সঙ্গে সেনাসদস্যরা যোগ দেয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ওসি আরও বলেন, বদরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে গুরুতর আহত লাভলু সরকার, মোক্তারুল, মোন্নাফ আলি ও শফিকুল ইসলামকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লাভলু সরকার মারা যান।