ছয় ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ বাকৃবি উপাচার্যসহ ২৩০ শিক্ষক
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে ভিসি অধ্যাপক ড. ফজলুল হক ভুইয়াসহ ২৩০ শিক্ষক-শিক্ষিকা ছয় ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। আজ রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তালা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
পশুপালন ও ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সিদ্ধান্ত হয় পশুপালন, ভেটেরিনারি ও কম্বাইন্ড -এই তিনটি ডিগ্রি বহাল রাখা হবে। তবে এ সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছেন না আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই মিলনায়তনে তালা দেন তারা।
সন্ধা ৬টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা অবরুদ্ধ আছেন বলে জানিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ড. ফজলুল হক ভুইয়া।
একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের শিক্ষকরা অংশ নেন। সভা শেষে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, আগামী সেশন থেকে কম্বাইন্ড কোর্সে ১৫০ জন, ভেটেরিনারিতে ৫০ এবং পশুপালনে ৫০ শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে। ইতোমধ্যে যারা ভর্তি হয়েছেন, তাদের জন্য অপশন থাকবে—তারা চাইলে ভেটেরিনারি, পশুপালন বা কম্বাইন্ড যেকোনো একটি ডিগ্রি নিতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী দুই অনুষদ একীভূত করা সম্ভব নয়; তবে দুই অনুষদ মিলিতভাবে কম্বাইন্ড ডিগ্রি প্রদান করবে এবং পালাক্রমে দুই অনুষদ থেকেই ডিন নির্বাচিত হবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান সরকার জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এ লক্ষ্যে ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ককে প্রধান করে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে কম্বাইন্ড কোর্সের জন্য নতুন কারিকুলাম তৈরি করবেন। মেকআপ কোর্সের কারিকুলামও প্রস্তুত করা হবে।
তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তিনটি ডিগ্রি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত মানতে রাজি নন। তারা এক পেশায় এক ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভেটেরিনারি অনুষদের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘২৫ জুলাই থেকে যৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। অথচ আজকের সিদ্ধান্তে দেখা গেল তিনটি ডিগ্রিই বহাল রাখা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার যেখানে কম্বাইন্ড ডিগ্রির পক্ষে, সেখানে শিক্ষকদের এ সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।'
পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘সকালে আমরা আমতলায় অবস্থান নিই। পরে দুপুরে শিক্ষকরা আমাদের জানালেন যে তিনটি ডিগ্রিই বহাল থাকবে। কিন্তু আমাদের দাবি ছিল কেবল একটি ডিগ্রি, আর সেটি হলো কম্বাইন্ড ডিগ্রি। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিরা বলেন, ‘৩৬ দিন ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আমরা আন্দোলন চালাচ্ছি। চাকরির ক্ষেত্রে সব জায়গায় কম্বাইন্ড ডিগ্রির প্রাধান্য রয়েছে। কিন্তু এখন তিনটি ডিগ্রি রাখলে ভবিষ্যতে সমস্যা আরও বাড়বে। আমরা একটাই দাবি জানাই, এক পেশায় একটি ডিগ্রি থাকতে হবে।’