বিতর্কিত ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন দুই এমপির

ভারতের লোকসভায় পাস হওয়া বিতর্কিত ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন বিরোধী দলীয় দুই সংসদ সদস্য (এমপি)। আবেদনে প্রস্তাবিত আইনটিকে ‘মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাভেদ ও এআইএমআইএমের এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বিতর্কিত বিলটির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে পৃথক আবেদন দাখিল করেছেন। এই বিলে আনা বিধানগুলোকে ‘মুসলমানদের মৌলিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন তারা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজ্যসভায় দীর্ঘ আলোচনার পর ওয়াকফ (সংশোধনী) বিলটি পাস হয়। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার জন্য দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে।
সংসদ সদস্য জাভেদ তার আবেদনে বলেছেন, বিলটি মুসলমানদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে। তিনি উল্লেখ করেন, বিলটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪ (সমতার অধিকার), ২৫ (ধর্ম পালনের স্বাধীনতা), ২৬ (ধর্মীয় বিষয় পরিচালনার স্বাধীনতা), ২৯ (সংখ্যালঘু অধিকার) এবং ৩০০এ (সম্পত্তির অধিকার) লঙ্ঘন করে।
জাভেদ লোকসভায় কংগ্রেসের হুইপ। তিনি ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল সম্পর্কিত যৌথ সংসদীয় কমিটির সদস্যও ছিলেন।
কংগ্রেদের এই সংসদ সদস্য তার আইনজীবী আনাস তানভীরের মাধ্যমে দায়ের করা আবেদনে বলেছেন, প্রস্তাবিত আইনটিতে আরোপিত বিধিনিষেধগুলো অন্যান্য ধর্মের দান পরিচালনার ক্ষেত্রে নেই। যা অন্যান্য ধর্মীয় দান পরিচালনায় উপস্থিত নেই। এটি মুসলমানদের প্রতি বৈষম্যমূলক। উদাহরণস্বরূপ, হিন্দু ও শিখ ধর্মীয় ট্রাস্টগুলো কিছুটা নিজেদের বিধি মোতাবেক চলেছে। ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনের সংশোধনী ওয়াকফ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাড়িয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, এই ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ ১৪ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘনের শামিল। একইসঙ্গে এমন স্বেচ্ছাচারী শ্রেণিবিভাগ প্রবর্তন করা, যার অর্জন করতে চাওয়া লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে যুক্তিসঙ্গত নয়।

জাভেদ বলেন, প্রস্তাবিত আইনে একজন ব্যক্তির ধর্মীয় অনুশীলনের সময়কালের ওপর ভিত্তি করে ওয়াকফ তৈরিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়, এই ধরনের সীমাবদ্ধতা ইসলামী আইন, রীতিনীতিতে নজিরবিহীন এবং ২৫ অনুচ্ছেদের অধীনে ধর্ম পালন ও পালনের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন করে। এই নিষেধাজ্ঞায় যারা সম্প্রতি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং ধর্মীয় বা দানের উদ্দেশ্যে সম্পত্তি দিতে চান, তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে, যার ফলে অনুচ্ছেদ ১৫ এর লঙ্ঘন হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওয়াকফ বোর্ড ও কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ওয়াকফ সংস্থাগুলোর প্রশাসনিক কাঠামোতে অমুসলিম সদস্যদের বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তির বিধান ধর্মীয় শাসনে একটি অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ।