চৌদ্দগ্রামে তিন সন্তানসহ দম্পতির ইসলাম গ্রহণ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তিন সন্তানসহ স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন শ্যামল ও সোনালী দেবী দম্পতি। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে উপজেলা ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি মাওলানা সাইয়্যেদ রাশীদুল হাসান জাহাঙ্গীর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে কালিমা পাঠ করান।
এর আগে গত মঙ্গলবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ইয়াসমিনের আদালতে ধর্ম পরিবর্তন সংক্রান্ত হলফনামা করেন তারা।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর শ্যামলের নতুন নাম রাখা হয়েছে মো. আবিদ উল্লাহ, তার স্ত্রী সোনালী দেবীর নাম আরোহী জান্নাত, বড় মেয়ে মনিষার নাম তাসনিম জান্নাত, ছোট মেয়ে তিশার নাম আরিশা জান্নাত এবং একমাত্র ছেলে আয়ুষ্মানের নাম মোহাম্মদ আনাস রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল-সোনালী দম্পতি প্রায় ১০ বছর ধরে চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ জামে মসজিদ রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। সেখানেই শ্যামলের একটি সেলুন দোকান রয়েছে। নয় বছর আগে তাদের দাম্পত্য জীবনে বড় মেয়ে মনিষার জন্ম হয়। ছোটবেলা থেকেই সে পাশের মক্তব ও মসজিদের শিশুদের সঙ্গে মিশতে গিয়ে কালিমা ও কয়েকটি সূরা মুখস্থ করে ফেলে এবং প্রায়ই বাসায় তা বাবা-মাকে শুনাতো। এ থেকেই শ্যামল-সোনালী দম্পতি ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হন।
প্রায় দুই বছর আগে শ্যামল তার দোকানে আসা কয়েকজন তরুণ ব্যবসায়ীর সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ নিয়ে আলোচনা করেন। শেষ পর্যন্ত গত মঙ্গলবার আদালতে হলফনামা করে এবং বৃহস্পতিবার রাতে শরীয়াহ মোতাবেক কালিমা পাঠের মাধ্যমে স্বপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মো. আকতারুজ্জামান, এমরান হোসেন বাপ্পি, ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বেলাল হোসেন ইয়াছিন, মো. আরিফুর রহমান, মো. মাহফুজুর রহমান, মো. ইলিয়াছসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ইসলাম গ্রহণ বিষয়ে মো. আবিদ উল্লাহ বলেন, ছোট শিশুদের সঙ্গে চলাফেরার সময় আমার বড় মেয়ে কোরআনের কয়েকটি সূরা মুখস্থ করে। মেয়ের মুখে কোরআনের তেলাওয়াত শুনে হৃদয়ে অন্যরকম অনুভূতি জাগে। তাই স্বপরিবারে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ও শান্তির ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করেছি। যেন বাকি জীবন হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুযায়ী আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি, সেজন্য সকলের দোয়া কামনা করছি।