মাহমুদ আব্বাসের মার্কিন ভিসা পুনর্বহালের আহ্বান ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের

আগামী সেপ্টেম্বরের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) যোগদানের আগে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
এর আগে, শুক্রবার (২৯ আগস্ট) মাহমুদ আব্বাসসহ আরও ৮০ জন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ভিসা বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনায় শনিবার (৩০ আগস্ট) ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় “বিস্ময়” প্রকাশ করে জানায়, এই পদক্ষেপ উত্তেজনা আরও বাড়াবে। খবর আল জাজিরার।
আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদাইনা বলেন, “আমরা মার্কিন প্রশাসনকে তাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি। এ ধরনের পদক্ষেপ কেবলমাত্র উত্তেজনা ও সংঘাতকে বাড়িয়ে দেবে।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে আরব ও অন্যান্য বিদেশি দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান পুনরুজ্জীবনের উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলন ঘিরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) ও ফিলিস্তিনি মুক্তি সংগঠন (পিএলও) তাদের প্রতিশ্রুতি মানছে না এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ফিলিস্তিনিরা আন্তর্জাতিক আদালতগুলোতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা “শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”
তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাট ডাস বলেন, জাতিসংঘের সদরদপ্তর যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত, তাই কূটনৈতিক প্রোটোকল অনুযায়ী দেশটির ভিসা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে।
তিনি আল জাজিরাকে জানান, “এটি সম্পূর্ণভাবে মতাদর্শগত প্রভাবিত সিদ্ধান্ত। মার্কিন প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি ইসরায়েলের ডানপন্থি সরকারের সঙ্গে কাজ করছে, যাদের লক্ষ্য ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক এজেন্ডা থেকে সরিয়ে দেওয়া।”
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস বলেন, “জাতিসংঘ সদরদপ্তর ও স্বাগতিক দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তির আলোকে আমরা সবাই এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি।”
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, জাতিসংঘ সদরদপ্তর হলো নিরপেক্ষতার স্থান, যেখানে প্রবেশাধিকারে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকা উচিত নয়।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শনিবার আব্বাসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং ভিসা বাতিলকে “অন্যায্য” আখ্যা দিয়ে ফিলিস্তিনকে দৃঢ় সমর্থনের আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনের জাতিসংঘসহ সব আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের কণ্ঠ শোনানোর অধিকার রয়েছে।”