এসসিও সম্মেলন
আলোচনার কেন্দ্রে মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধ ও ভারত-চীন সম্পর্ক

চীনের তিয়ানজিন শহরে শুরু হয়েছে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলন। বিশ্বের জনসংখ্যাভিত্তিক সবচেয়ে বড় এই আঞ্চলিক জোটের বৈঠকে যোগ দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ ২০টিরও বেশি দেশের শীর্ষ নেতা।
২০০১ সালে চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান মিলে প্রতিষ্ঠা করা এসসিও এখন মধ্য এশিয়ার সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন এই ফোরামকে ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক কাঠামোর বাইরে “বিকল্প আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থা” গড়ে তোলার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে। খবর আল জাজিরার।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এ বছরের সম্মেলন মূলত প্রতীকী হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যযুদ্ধ ও ভারত-চীন সম্পর্কই আলোচনার বড় বিষয় হয়ে উঠবে।
ভারত-চীন সম্পর্কের দিকে নজর
সাত বছর পর এই সম্মেলনে মুখোমুখি হবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সীমান্ত উত্তেজনার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে শীতল থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপের পর তা কিছুটা ঘনিষ্ঠতার দিকে মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রুশ তেল আমদানি অব্যাহত রাখার কারণে ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ভারতের এ বাণিজ্য রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছে। এ প্রেক্ষাপটে বেইজিং দিল্লিকে যুক্তরাষ্ট্রনেতৃত্বাধীন কোয়াড জোট থেকে দূরে টানতে চাইতে পারে।
রাশিয়া-চীন ঘনিষ্ঠতা
সম্মেলনে পুতিন ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের আগে চীন-রাশিয়া “সীমাহীন অংশীদারিত্ব” চুক্তি করেছিল। এরপর থেকে বেইজিং মস্কোর অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্মেলনের মূল ফলাফল হবে একটি যৌথ বিবৃতি, যেখানে এককেন্দ্রিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মতো সাধারণ বক্তব্য থাকবে।

৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর উপলক্ষে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ। এতে যোগ দেবেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন, সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচসহ আরও অনেক বিশ্বনেতা।
তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি ওই কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রতিনিধিত্ব করতে পাঠাতে পারেন।