ঈদের ছুটিতে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

ঈদুল ফিতরের টানা ৯ দিনের ছুটিতে ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে পাহাড়পুর ঘুরতে এসেছেন সবাই।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ কেউ সেলফি তুলছেন, আবার কেউ কেউ প্রকৃতির মনোরম পরিবেশ উপভোগ করছেন প্রিয়জনদের সঙ্গে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল চোখে পড়ার মতো।
এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নে অবস্থিত। নওগাঁ জেলা শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে এই ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের অবস্থান। এই বিহারের আদি নাম সোমপুর বিহার।
জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের ছুটির দিনগুলোতে বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী পাহাড়পুরে ছুটে এসেছেন। ঈদের দিন দুপুর থেকে এই পাহাড়পুরে দর্শনার্থীদের আগমন বাড়তে থাকে। আর দর্শনার্থীদের আগমন উপলক্ষে বৌদ্ধবিহার পাহাড়পুর সংলগ্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, কসমেটিকস ও ঝিনুকের দোকানগুলো দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন বর্ণিল সাজে সাজিয়েছেন দোকানিরা।
দোকানি আল আমিন জানান, এই রোজার ঈদের এক সপ্তাহ ধরে দর্শনার্থীর আগমন ঘটে এই বৌদ্ধবিহারে। প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার দর্শনার্থী এই পাহাড়পুর পরিদর্শন করতে আসেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ডাবরি গ্রাম থেকে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার দেখতে এসেছিলেন বিনি আমিন ও রওনক জাহান দম্পতি। তাঁরা বলেন, ‘আমরা দুই ছেলেকে নিয়ে এখানে এসেছি। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে এসে সবাই খুবই আনন্দ পেয়েছে। ঐতিহাসিক বৌদ্ধবিহার পাহাড়পুরের নাম আমরা অনেক শুনেছি ও জেনেছি কিন্তু সময়ের অভাবে এটি বাস্তবে দেখার সময় হয়নি। আর এ বছর ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে এসে বাস্তবে এতো সুন্দর দৃশ্য দেখে খুব ভালো লাগছে।’
দর্শনার্থী রোকাইয়া আক্তার সনি ও লুৎফুন নাহার স্মৃতি বলেন, ‘আমরা এখানে এর আগে বহুবার এসেছি। কিন্তু এবার এখানে এসে মনে হচ্ছে নতুন এক বৌদ্ধবিহার পাহাড়পুরকে দেখেছি ও পুরো পাহাড়পুরটি পরিদর্শন করে আমরা খুবই আনন্দ পেয়েছি।’
পাহাড়পুর জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজু বলেন, ‘গতবছরের তুলনায় এবার ঈদে দর্শনার্থী বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা এসেছেন। রাস্তায় রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা থাকায় এবার যানজট নেই। ঈদের ছুটিতে রেকর্ড পরিমাণ দর্শনার্থী এসেছে, আরও আসবে বলে আশা করছি। দর্শনার্থীদের আগমন ও দর্শনে উপচে পড়া ভিড় থাকায় এবারে সরকারি কোষাগারে বিগত বছরের তুলনায় অনেক বেশি রাজস্ব যোগ হবে।’
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘এই বৌদ্ধবিহার শুধু নওগাঁ জেলা নয়; এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার। ঈদ ছাড়া প্রতিদিন এখানে শত শত দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য এখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছাউনি ও বেঞ্চ। এতে করে এই গরমে দর্শনার্থীরা খুব বেশি ক্লান্ত হচ্ছে না। দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার দর্শন করছেন। আমাদের নতুন নতুন অনেক পরিকল্পনা রয়েছে এই পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারটি ঘিরে।’