২৮ বছর পর দেশে এসে ডাকাতের হাতে প্রাণ গেল প্রবাসীর

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের কোনাগ্রামে ডাকাতদের হামলায় নিহত হয়েছেন সৌদিপ্রবাসী জামাল মাতুব্বর (৫৫)। গতকাল শুক্রবার (৪ এপ্রিল) মধ্যরাতে তার নিজ বাসায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। মাত্র এক মাস আগে বিয়ে করেছিলেন জামাল।
নিহত জামাল ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের কোনাগ্রামের মৃত হাতেম মাতুব্বরের একমাত্র ছেলে।
জানা যায়, ১৯৭১ সালে বাবা হাতেম মাতুব্বরকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী। তখন একমাত্র ছেলে জামাল মাতুব্বর মায়ের গর্ভে ছিল। স্বামীর হারানোর শোকের মধ্যেই শিরি বেগমের কোলজুড়ে দুনিয়ায় আগমন করে জামাল। পরে শিশু সন্তানের চিন্তা করে শিরি বেগমও আর বিয়ে করেনি। অপরদিকে, জামাল বড় হওয়ার পর সংসারের হাল ধরতে ২৮ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান।
সৌদি আরব থেকে দীর্ঘ ২৮ বছর পর এবার রমজানের আগে বাড়িতে আসেন তিনি। ততদিনে জামালের বয়স ৫৫ হয়ে যায়। এই বয়সেই তিনি মাত্র একমাস আগে বিয়ে করেন। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে গতকাল মধ্যরাতে নিজ বসতঘরে ডাকাত দলের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে জামালকে।
নিহত জামালের বৃদ্ধ মা শিরি বেগম বলেন, আমি বাড়িতে ছিলাম না। শুক্রবার রাতে আমার একমাত্র ছেলে জামাল তার নতুন স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে ছিলেন। আর কেউ বাড়িতে ছিল না। ভোররাতে খবর পেলাম ডাকাতরা আমাদের ঘরে ঢুকে আমার ছেলেকে মেরে লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
জামালের খালাতো বোন সাথী বেগম বলেন, ডাকাত দলের সদস্যরা জামালের ঘরে ঢুকে তার অণ্ডকোষে আঘাত করে ঘরে থাকা নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও ১০ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা এসে জামালকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভোর ৪টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-নগরকান্দা) মো. আসাদুজ্জামান শাকিল এনটিভি অনলাইনকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গভীররাতে দুইজন চোর বা ডাকাত জামালের ঘরে ঢুকে তার অণ্ডকোষে আঘাত করে হত্যা করে। তাকে হত্যার সময় ঘরের বাহিরে আরও লোকও থাকতে পারে। ঘটনাটি দুঃখজনক। আমরা গুরুত্ব দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত করছি। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো।