বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস সিরিজ শুরু আজ

এশিয়া কাপের আগে হাতে সময় একেবারে কম৷ শেষ দিকের প্রস্তুতি হিসেবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মুখোমুখি হতে চলেছে বাংলাদেশ। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসরে মাঠে নামার আগে বড় প্রতিপক্ষ না পাওয়ায় ডাচদের বিপক্ষে নিজেদের ঝালিয়ে নেবে বাংলাদেশ। আজ শনিবার (৩০ আগস্ট) থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। প্রথম ম্যাচে সন্ধ্যা ৬টায় সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে লড়াইয়ে নামবে দুদল।
বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে এসেছে নেদারল্যান্ডস। পরিসংখ্যানে অনেকটাই এগিয়ে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে ডাচদের বিপক্ষে ৫ বারের দেখায় ৪ টি ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ এবং হেরেছে ১ টি ম্যাচে। নেদারল্যান্ডসের একমাত্র জয়টিও এসছে এক যুগেরও বেশি সময় আগে, ২০১২ সালে। দুদল সর্বশেষ এই সংস্করণে মুখোমুখি হয় ২০২৪ সালে। অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। কিংসটাউনে সেই ম্যাচে ২৫ রানে জয় পায় বাংলাদেশ।
নেদারল্যান্ডসের দুই তারকা অলরাউন্ডার বাস ডি লাডে ও ফন ডার মেরউই কাউন্টি খেলায় এই সিরিজে নেই। এমনকি বাংলাদেশের কন্ডিশনও তাদের পরিচিত নয়। তবে ডাচ অধিায়ক জয়ের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী।
সংবাদ সম্মেলনে নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস বলেন, ‘অবশ্যই বিশ্বাস করি, সিরিজ জিততে পারব। প্রতিটি সিরিজে জেতার জন্যই খেলি। আমরা আশা করি, ভালো ক্রিকেট খেলব। যদি যথেষ্ট ভালো খেলতে পারি, তাহলে আমাদের একটা সুযোগ থাকবে।’
বাংলাদেশ দলে ফিরেছেন নুরুল হাসান সোহান ও সাইফ হাসান। দুজনই সর্বশেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ২ বছরের বেশি সময় আগে। সোহান ২০২৪-২৫ মৌসুমে টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতে ৫১৪ রান করেছেন এবং তার অধীনেই রংপুর রাইডার্স গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগে রানার্সআপ হয়েছে। সাইফ অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে দুই ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি পেয়েছেন।
বাংলাদেশের পেসাররা সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ফর্মে রয়েছে। পেসাররা ২০২৫ সালে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে ৫১ উইকেট পেয়েছে, যা মোট উইকেটের ৬০.৭১ শতাংশ।
তবে স্পিনাররা সেইভাবে জ্বলে উঠতে পারছেনা। মেহেদি হাসান শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টিতে ১১ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে সিরিজ জয়ে বড় ভূমিকা রাখলেও পাকিস্তান সিরিজ বল হাতে সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেননি। পাকিস্তান সিরিজে ৮.৯ ইকোনমিকতে ৩২.৬৬ গড়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। ২০২৫ সালে রিশাদের ইকোনমিক ছিল ৮.৭৫। আরেকজন স্পিনার নাসুম আহমেদ, যিনি এবছর কোন টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেননি।
তবে প্রতি প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখছেন না লিটন দাস। ডাচদের সমীহ করে লিটন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো ছোট দল নেই। আমরা সবসময় জেতার জন্য খেলি। অতীতে যত ম্যাচ খেলেছি বা ভবিষ্যতে যতগুলো ম্যাচ খেলব, সব জেতার জন্যই। হয়তো নেদারল্যান্ডস এই কন্ডিশনে খুব একটা খেলে না, কিন্তু যদি ভালো উইকেটে খেলা হয়, তারা ভালো উইকেটে ক্রিকেট খেলে অভ্যস্ত। তাই চ্যালেঞ্জ থাকবেই।’
সিলেটের উইকেট ব্যাটিং সহায়ক। কন্ডিশনও ভালো। আজ ম্যাচের আগেরদিন বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্সও কথা বলেছেন এখানের কন্ডিশন নিয়ে। তার কাছে মনে হয়েছে সিলেটের কন্ডিশন বিশ্বের অন্য আদর্শ জায়গাগুলোর মতোই।
বাংলাদেশকে এই সিরিজে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে আগের দুটি সিরিজ জয়। শ্রীলঙ্কার মাটিতে তাদের ২-১ ব্যবধানে হারানোর পর আর ঘরের মাটিতে পাকিস্তানকে হারিয়েছে লিটন-জাকেররা।
এশিয়া কাপের আগে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজটা একটা পরীক্ষা বাংলাদেশের জন্য। টানা ১০ দিন সিলেটে অনুশীলনের পর তাদের প্রস্তুতি কতটা হয়েছে সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। এছাড়া জুলিয়ান উডের পাওয়ার হিটিং কৌশলের প্রশিক্ষণ কেমন হল সেটিও দেখা যাবে ডাচদের বিপক্ষে ম্যাচে।