চীনের সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দিচ্ছেন পুতিন-কিম জং, কূটনৈতিক নতুন সমীকরণ

আগামী সপ্তাহে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। এটি তার আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ইভেন্টে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ২৬ জন রাষ্ট্রপ্রধান উপস্থিত থাকবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিমের সঙ্গে দেখা করতে চান বলার কয়েক দিন পরেই এই ঘোষণা এলো। খবর এএফপির।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘বিজয় দিবস’ কুচকাওয়াজটি জাপানের বিরুদ্ধে চীনের যুদ্ধের ৮০তম বার্ষিকী এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত হচ্ছে।
এই কুচকাওয়াজে চীন তাদের শত শত বিমান, ট্যাংক ও অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমসহ সর্বশেষ সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি হবে তাদের সামরিক বাহিনীর নতুন শক্তি কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ প্রদর্শনী। তিয়ানানমেন স্কোয়ারে কয়েক হাজার সামরিক সদস্য মার্চ পাস্টে অংশ নেবেন, যার মধ্যে চীনের সামরিক বাহিনীর ৪৫টি স্তর এবং যুদ্ধফেরত সেনারাও থাকবেন। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই ৭০ মিনিটের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করবেন এবং বিশ্লেষক ও পশ্চিমা শক্তিগুলো এর দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে পিয়ংইয়ংয়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে তাদের কয়েক দশকের ‘ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের’ বেইজিং। তারা জানায়, উভয় দেশ ‘আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা’ রক্ষায় সহযোগিতা চালিয়ে যাবে।
বেইজিংয়ের কেন্দ্রে পুতিন ও শি জিনপিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে কিমের এই কুচকাওয়াজে উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দৃশ্য তৈরি করবে। এটি শি’র জন্য একটি বড় কূটনৈতিক জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে পুতিনের সঙ্গে একটি চুক্তি করার চেষ্টা করছেন। গত সপ্তাহে তিনি কিমের সঙ্গে আবারও দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে চীনা নেতা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, ভূ-রাজনৈতিক খেলায় তিনিই মূল খেলোয়াড়। উভয় নেতার (কিম ও পুতিন) ওপর তার প্রভাব রয়েছে – যদিও তা সীমিত।
সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। হোয়াইট হাউস ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অক্টোবরের শেষে এই অঞ্চলে সফর করতে পারেন। শি’র সঙ্গেও সাক্ষাতে আগ্রহী। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে চীনা নেতা কিম ও পুতিনের সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন।
কিমের বেইজিং সফরের পর ছয় বছর কেটে গেছে। তিনি সর্বশেষ ২০১৯ সালে দুই উত্তর কোরিয়া ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০তম বার্ষিকীতে যোগ দিতে বেইজিং সফর করেছিলেন কিম। এই রহস্যময় নেতা ২০১৮ সালে তিনবার বেইজিং সফর করেছিলেন, যা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য তার জন্য একটি বিশেষ ব্যস্ত বছর ছিল। কারণ তিনি খুব কমই বিদেশে ভ্রমণ করেন।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে বেশিরভাগ পশ্চিমা নেতা এই কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে।