২০২৬ সালের পর লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন বন্ধের সিদ্ধান্ত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে শান্তিরক্ষী মিশন ইউএনআইএফআইএল এর মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। তবে এর পরের এক বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে মিশনটি “সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে প্রত্যাহার” করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রস্তাব গৃহীত হয়। রোববার (৩১ আগস্ট) ইউএনআইএফআইএলের বর্তমান ম্যান্ডেট শেষ হওয়ার আগেই ভোট অনুষ্ঠিত হলো। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েল এ মিশন সমাপ্তির জন্য চাপ দিয়ে আসছিল।
ইউএনআইএফআইএলের পটভূমি
১৯৭৮ সালে ইসরায়েলের দক্ষিণ লেবানন আক্রমণের পর ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার তদারকি করতে ইউএনআইএফআইএল গঠিত হয়।
২০০৬ সালের ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের পর মিশনের পরিধি বাড়ানো হয়, যা দুই পক্ষের মধ্যে নিরস্ত্রীকৃত বাফার অঞ্চল বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সমর্থকরা মনে করেন।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী
ইউএনআইএফআইএল ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যক্রম চালাবে। এরপর ১০ হাজার ৮০০ সামরিক ও বেসামরিক কর্মী এবং সরঞ্জাম ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে।
লেবানন সরকারকে দক্ষিণাঞ্চলে (ব্লু লাইন সীমান্তের উত্তরে) এককভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হবে। ইসরায়েলকে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইউএনআইএফআইএল মিশন বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে এবং এরই মধ্যে মার্কিন অর্থায়নও কমিয়ে দিয়েছে।
ইসরায়েল অভিযোগ করছে, ইউএনআইএফআইএল হিজবুল্লাহর হুমকি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমণ ও পরবর্তীতে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ায় ইসরায়েল মিশন সমাপ্তির দাবি জোরদার করে।

চলমান পরিস্থিতি
গত বছরের অক্টোবর থেকে ইসরায়েল লেবাননে স্থল অভিযান চালাচ্ছে। এ সময় একাধিকবার ইউএনআইএফআইএল ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে, যেখানে শান্তিরক্ষীরা আহত হয়েছেন। নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল বারবার লেবাননে হামলা চালাচ্ছে এবং কিছু কৌশলগত এলাকায় সেনা অবস্থান বজায় রেখেছে।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবারের ভোটে যুক্তরাষ্ট্র লেবানন সরকারকে সঙ্গে নিয়ে হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনা সামনে আনে। তবে হিজবুল্লাহ এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ ইসরায়েল এখনও লেবাননে উপস্থিত রয়েছে।