ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা উত্তেজনা

দক্ষিণ ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) পারমাণবিক সাবমেরিনসহ এসব যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই সামরিক তৎপরতার লক্ষ্য হলো মাদক চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। তবে ভেনেজুয়েলা এটিকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি হিসেবে দেখছে। খবর রয়টার্সের।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদক চোরাকারবারিদের দমন করাকে তার প্রশাসনের একটি প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এটি মূলত অভিবাসন সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। যদিও মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো এই অঞ্চলে নিয়মিত চলাচল করে। তবে এবারের সামরিক উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাতটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি পারমাণবিক সাবমেরিন বর্তমানে ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘আমাদের দেশে মাদক প্রবেশ বন্ধ করতে আমেরিকার সকল শক্তি ব্যবহার করতে প্রস্তুত।’
অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এটিকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছেন। একইসঙ্গে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদনও করেছেন।
জাতিসংঘের ভেনেজুয়েলান রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাডা বলেন, এটি একটি বড় ধরনের প্রচার অভিযান, যার উদ্দেশ্য হলো সামরিক হস্তক্ষেপকে বৈধতা দেওয়া। মাদুরো নিজেও এই সামরিক উপস্থিতিকে ‘কামান ও হুমকির কূটনীতি’ বলে অভিহিত করেছেন। এর জবাবে, ভেনেজুয়েলা সম্প্রতি কলম্বিয়া সীমান্তে ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে এবং নাগরিকদের প্রতি সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে এই ঘটনা দুদেশের মধ্যকার গভীর অবিশ্বাসকে আবারও সামনে এনেছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র মাদক চোরাচালানকে জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যু হিসেবে দেখছে, সেখানে ভেনেজুয়েলা এই সামরিক শক্তি প্রদর্শনকে নিজেদের জন্য সরাসরি হুমকি মনে করছে।