গাজা শহর এখন ‘বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র’

ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর গাজাকে একটি ‘বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। গত প্রায় দুই বছর ধরে চলতে থাকা ধংসাত্মক এই যুদ্ধে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় শহর গাজাকে কব্জায় নিতে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ানোর আগমুহূর্তে আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) এমন ঘোষণা দিল ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ। খবর এএফপির।
গাজায় ইসরায়েলের ক্রমাগত আক্রমণের মুখে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ কমাতে এবং জাতিসংঘ কর্তৃক উপত্যকাটিকে দুর্ভিক্ষপীড়িত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী কিছুটা হলেও দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে বেশ চাপের মুখে রয়েছে।
তবে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী সংঘাত আরও ছড়িয়ে দিতে ও গাজা শহরের পুরো নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নিতে সবরকমের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বিষয়ে আজ দেশটির সেনাবাহিনীর একজন আরবিভাষী মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা আর অপেক্ষা করছি না।’
আভিচায় আদরাই নামের ওই মুখপাত্র তার এক্স অ্যাকাউন্টে লেখেন, গাজা শহরে আক্রমণের জন্য আমরা প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি এবং হামলা এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এই মুহূর্তে আমরা গাজা শহরের উপকণ্ঠে পূর্ণ শক্তি নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছি।
এদিকে জাতিসংঘ তাদের এক বিবৃতিতে বলেছে গাজার স্বশাসিত অঞ্চলে এখন প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, গাজা শহরের দিকে অগ্রসর হওয়ার অর্থ দাঁড়ায় সেটি হবে একটি বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র। এর ফলে সাহায্য কার্যক্রমে সামরিক বাহিনীর তৎপরতা বন্ধ হয়ে যাবে।
তবে এতো প্রস্তুতি নেওয়া হলেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার জনসাধারণকে তাৎক্ষণিক এলাকা ত্যাগের কোনো ঘোষণা দেয়নি। অবশ্য এই সপ্তাহের শুরুতে সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আদরাই বলেছিলেন, গাজা শহর থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করা ‘অনিবার্য’।
গাজা শহরের দক্ষিণে এএফপির বিভিন্ন ফুটেজে দেখা গেছে ফিলিস্তিনিরা সেখানে ইসরায়েলি হামলার পরপর ধ্বংসস্তূপের ভেতর দিয়ে সহায় সম্বল নিয়ে সরে যাচ্ছে।

জাবালিয়া থেকে দক্ষিণমুখো ৪২ বছর বয়সী মোহাম্মদ আবু কামার বলেন, ‘আমার অন্তর পুড়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর ছাড়তে চাই না। আমাদেরকে কোনোরকম ত্রাণ সামগ্রী ছাড়াই উত্তর ও দক্ষিণ দিকে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।’
আবু কামার আরও বলেন, ‘মৃত্যু আমাদের আরও কাছে আসছে। আমরা রাস্তায় হাঁটছি, তবে জানি না কোনো নিরাপদ আশ্রয় পাবো কিনা বা অর্ধেক রাস্তা গিয়ে মারা যাব কিনা।’