ভারতের পার্লামেন্টে আলোচিত ওয়াকফ সংশোধনী বিল উত্থাপন

ভারতের পার্লামেন্টে (লোকসভা) দেশটির সংখ্যালঘু বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বহুল আলোচিত ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল-২০২৫ উত্থাপন করেছেন। যৌথ পার্লামেন্টারি কমিটির প্রস্তাবিত এই বিলটি লোকসভা সদস্যদের বিবেচনার পর পাসের জন্য উত্থাপন করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
বিলটি ভারতের ওয়াকফ সম্পত্তির প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালু, জটিলতা নিরসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য পাস করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
লোকসভায় বিলটি উত্থাপন করে কিরেন রিজিজু বলেন, ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে যৌথ পার্লামেন্টারি কমিটির পরামর্শ প্রক্রিয়া ছিল পার্লামেন্টারি প্যানেল কর্তৃক পরিচালিত সবচেয়ে বড় অনুশীলন। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় শশরীরে পাঠানো ও অনলাইন ফরমেটে ৯৭ লাখেরও বেশি পিটিশন ও স্মারক গ্রহণ করা হয় যৌথ পার্লামেন্টারি কমিটির মাধ্যমে। সেগুলোর প্রতিটি নিরীক্ষণ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী রিজিজু আরও বলেন, এ বিষয়ে ২৫টি রাজ্যের ওয়াকফ বোর্ড ও কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ২৮৪ জন প্রতিনিধি তাদের মতামত প্রদান করেছে। আইনজ্ঞ, দাতব্য প্রতিষ্ঠান, একাডেমিক ও ধর্মীয় নেতারাও বিলটির বিষয়ে তাদের মতামত দিয়েছেন।
ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী আদর্শের দল ক্ষমতাসীন বিজেপি বলছে, বিলটি পাস হলে দেশের ওয়াকফ সম্পত্তির প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটবে। তবে আজ বুধবার (২ এপ্রিল) লোকসভায় বিরোধী দলের তীব্র বিরোধিতার মুখে বিলটি উত্থাপন করা হয়।
এদিকে, বিরোধী দল পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট মেহবুবা মুফতি অভিযোগ করেছেন বিলটি উত্থাপন করা হয়েছে মুসলিমদের ক্ষমতাকে খর্ব করার জন্য। তিনি বলেছেন, বিলটি পাস হলে কেউ ভারতকে আরেকটি মিয়ানমার হওয়ার পথ থেকে ফেরাতে পারবে না।

মেহবুবা মুফতি বলেন, বিজেপির শাসনামলে গত ১০-১১ বছর আমরা দেখছি কীভাবে মুসলিমদের মেরে ফেলা হচ্ছে, মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে… তাই আমি মনে করি হিন্দু ভাইদের এজন্য এগিয়ে আসতে হবে, কেননা আমাদের এই জাতি হলো গান্ধির জাতি, এই দেশটা সংবিধান অনুসারে চলা উচিত। তাই জনগণের এগিয়ে আসা উচিত অবিচার বন্ধ করার জন্য, যা হতে যাচ্ছে বিলটি পাসের মাধ্যমে।
এদিকে তামিল নাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন ওয়াকফ সংশোধন বিল ২০২৫ লোকসভায় পাস না করার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি নরেন্দ্র মোদিকে বিলটি প্রত্যাহার করে নেওয়ারও আবেদন জানিয়েছেন।