ট্রাম্পের শুল্ক অবৈধ ঘোষণার পর কী হতে পারে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত রায় দিয়েছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেশিরভাগ শুল্কই প্রেসিডেন্ট হিসেবে জরুরি ক্ষমতা ব্যবহারের অতিরিক্ত। এই সিদ্ধান্তের ফলে তার ‘পারস্পরিক শুল্ক’ অবৈধভাবে আরোপ করা হচ্ছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্য ও মার্কিন অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর বিবিসি।
এই রায়টি মে মাসে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের একটি রায়কে সমর্থন করে, যেখানে ট্রাম্পের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। তবে, আদালত এই শুল্কের প্রয়োগ স্থগিত করেনি। এটি আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বহাল থাকবে ও এরপর বিষয়টি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আপিল আদালত কী বলেছে?
আপিল আদালত ৭-৪ ভোটে নিম্ন আদালতের এই সিদ্ধান্তকে বহাল রাখে যে ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপের কোনো ক্ষমতা নেই। এর মূল কারণ ছিল, ট্রাম্প যে আইনের অধীনে এই নীতিগুলো প্রয়োগ করেছিলেন, সেই আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) বিচারকদের মতে, আদালত প্রেসিডেন্টকে শুল্ক, কর বা অনুরূপ কিছু আরোপের ক্ষমতা প্রদান করে না। আদালত এই শুল্কগুলোকে আইনের পরিপন্থি হিসাবে অবৈধ বলে অভিহিত করে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে রায়ের সমালোচনা করে একে অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট’ ও দেশের জন্য ‘বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছেন।
আইইইপিএ কী?
এই আইনটি একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জাতীয় জরুরি অবস্থা বা বিদেশ থেকে আসা কোনো বড় হুমকির প্রতিক্রিয়া জানাতে বিশেষ অর্থনৈতিক ক্ষমতা প্রদান করে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনও এই আইন ব্যবহার করে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন।
কিন্তু আপিল আদালত তাদের সিদ্ধান্তে বলেছে, এই জরুরি আইন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের জন্য কোনো ক্ষমতা দেয় না। আদালত আরও বলেছে, শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতে রয়েছে।
এই রায়ের গুরুত্ব কেন বেশি?
রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের এজেন্ডার জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা। এছাড়াও, এই রায়ের ফলে মার্কিন অর্থনীতি ও বিশ্ব বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে। শুল্ক হলো এমন এক ধরনের কর, যা বিদেশি পণ্য আমদানির জন্য কোম্পানিগুলোকে দিতে হয়।
অর্থনীতিবিদ ড. লিন্ডা ইউহ বলেন, ‘ব্যবসা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে চলেছে।’ যেহেতু মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে আপিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই দেশগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ধীর করে দেবে।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও এর বড় প্রভাব পড়বে। যদি সুপ্রিম কোর্ট আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত বাতিল করে, তাহলে ভবিষ্যতে যেকোনো প্রেসিডেন্ট আইইইপিএ আইনটিকে আরও বেশি আগ্রাসীভাবে ব্যবহার করতে উৎসাহিত হতে পারেন।
এই রায়ের পর কী হতে পারে?
এখন এই মামলাটি সম্ভবত মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে যাবে। ট্রাম্প ইতোমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীল বিচারকদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় প্রেসিডেন্টের পক্ষে রায় যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
যদি শেষ পর্যন্ত শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করা হয়, তাহলে তা আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করবে। পণ্য আমদানির ওপর সংগৃহীত কোটি কোটি ডলার ফেরত দিতে হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। একই সঙ্গে, যুক্তরাজ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তিগুলোও বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়তে পারে।
বর্তমানে, ট্রাম্পের ‘পারস্পরিক শুল্ক’ আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে এরপর এগুলো আর প্রয়োগযোগ্য থাকবে না বলে আপিল আদালত জানিয়েছে। তবে, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার মতো পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক, যা ভিন্ন একটি রাষ্ট্রপতির অধীনে আনা হয়েছিল, তা অক্ষত থাকবে।