শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিদেশি শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী এবং সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করার পরিকল্পনা করছে।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর (ডিএইচএস) স্থানীয় সময় বুধবার (২৭ আগস্ট) জানায়, ভিসা অপব্যবহার রোধ ও বিদেশি ভিসাধারীদের কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
ডিএইচএস এক বিবৃতিতে বলেছে, “অনেক দিন ধরে আগের প্রশাসনগুলো বিদেশি শিক্ষার্থী ও ভিসাধারীদের অনির্দিষ্টকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে দিয়েছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে, করদাতাদের অর্থ ব্যয় করেছে এবং মার্কিন নাগরিকদের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিয়েছে।”
প্রস্তাবিত সীমাবদ্ধতাগুলোর মধ্যে রয়েছে, এফ ভিসা (শিক্ষার্থী): সর্বোচ্চ ৪ বছর, জে ভিসা (সাংস্কৃতিক বিনিময়): সর্বোচ্চ ৪ বছর, আই ভিসা (সাংবাদিক): সর্বোচ্চ ২৪০ দিন (আগে চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী থাকত), চীনা সাংবাদিকদের জন্য: সর্বোচ্চ ৯০ দিন।
এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভিসা তাদের একাডেমিক প্রোগ্রামের মেয়াদ অনুযায়ী দেওয়া হতো। তবে নতুন প্রস্তাব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, যদিও স্নাতক ডিগ্রি সাধারণত চার বছরে শেষ হয়, পিএইচডি প্রোগ্রাম বা গবেষণার কারণে সময় আরও বেশি লাগতে পারে।
মার্কিন উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার অর্থায়নে বিদেশি শিক্ষার্থীদের অবদান উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৬ লাখ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এফ-ভিসায় পড়াশোনা করছে, যাদের ফি সাধারণত মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় বেশি।

কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ—অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী ‘চিরস্থায়ী ছাত্রে’ পরিণত হয়েছেন, বারবার ভর্তি হয়ে দেশে থেকে যাচ্ছেন।
দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি জোরদার করেছে। এ বছরের শুরুতে সব স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন সাময়িক স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে আবেদন চালু হলে জানানো হয়, আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রমও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভিসা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে কেউ কেউ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে ভিসা হারিয়েছেন। যেমন, এক তুর্কি পিএইচডি শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্ককে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়ে একটি নিবন্ধ লেখার পর গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের চেষ্টা করা হয়। যদিও পরে তিনি মুক্তি পান, তার মামলা এখনও চলমান।
স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর জানিয়েছে, নতুন মেয়াদসীমার ফলে ভিসাধারীদের নিয়মিতভাবে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। এতে সরকার তাদের অবস্থান পর্যালোচনার সুযোগ পাবে।