গাজা সিটিতে হামলার ‘প্রাথমিক ধাপ’ শুরু করা ইসরায়েলি সেনা

গাজা সিটিতে আক্রমণের ‘প্রাথমিক ধাপ’ শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এ সময় শহরটিকে “যুদ্ধক্ষেত্র” ঘোষণা করা হয় এবং সেখানে মানবিক সহায়তা ঢোকার জন্য প্রতিদিনের বিরতিও স্থগিত করা হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদরেই শুক্রবার (২৯ আগস্ট) এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “আমরা অপেক্ষা করছি না। প্রাথমিক অভিযান ও আক্রমণের প্রথম ধাপ শুরু করেছি। শহরের প্রান্তে আমরা ব্যাপক শক্তি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছি।”
এদিকে, ইসরায়েল দাবি করেছে তারা ইলান ওয়েইস নামের এক ইসরায়েলির মরদেহ উদ্ধার করেছে, যিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় নিহত হন এবং যার দেহ গাজায় নেওয়া হয়েছিল।
মানবিক সহায়তার বিরতি স্থগিতের ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজা সিটির একটি পুষ্টি কেন্দ্রে মারাত্মকভাবে অপুষ্ট শিশুদের ভিড় বেড়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র টেস ইংগ্রাম বলেছেন, “ক্ষুধা ভয়াবহভাবে গাজা সিটিকে গ্রাস করছে।”
শিশুদের দেহে অপুষ্টির মাত্রা মেপে তাদের উচ্চ-শক্তি খাবার দেওয়া হলেও সরবরাহ সংকটের কারণে চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহার ও অপুষ্টিতে অন্তত পাঁচজন, এর মধ্যে দুই শিশু মারা গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ক্ষুধায় প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৩২২ জনে, যাদের মধ্যে ১২১ জন শিশু।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগস্টের শুরু থেকে গাজা সিটিতে স্থল ও আকাশপথে অব্যাহত বোমাবর্ষণে হাজারো বাসিন্দা পশ্চিম দিকে পালিয়ে যাচ্ছে। শুধু জায়তুন ও সাবরা মহল্লায়ই এক হাজারের বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে।
বাসিন্দা নিহাদ মাদুখ বলেন, “হেলিকপ্টার থেকে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে, মাত্র ১৫০ মিটার দূরে আগুনের বেল্ট ফেলে পুরো এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে।”
অন্যদিকে হামাসের সামরিক শাখা কাসেম ব্রিগেড সতর্ক করেছে, ইসরায়েলি হামলার কারণে গাজায় বন্দি থাকা ইসরায়েলিদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
শুক্রবারই গাজা জুড়ে অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জন ত্রাণ সংগ্রহকারীও রয়েছেন। মধ্য গাজার নেতজারিম কোরিডরের কাছে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে তিনজন নিহত হন।

দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসের পাশের আল-মাওয়াসি ‘নিরাপদ অঞ্চল’-এ শরণার্থীদের তাঁবুতে বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় দুই বছরের এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬২ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ জন।