মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনের ৮০ কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ ৮০ জন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে যোগদানে বাধা দিতে এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। খবর বিবিসির।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঘোষণায় জানানো হয়, মাহমুদ আব্বাসসহ প্যালেস্টাইন অথরিটি (পিএ) এবং ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) সদস্যদের ভিসা ‘প্রত্যাখ্যান ও বাতিল’ করা হয়েছে।
এবারের অধিবেশনে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ কিছু দেশ ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু মার্কিন প্রশাসন এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে। এই কারণেই ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এর আগে, জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেছিলেন, প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে আব্বাস নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন।
কিন্তু এরপর পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, নিষেধাজ্ঞার ফলে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা অধিবেশনে যোগদান করতে পারবেন কিনা সেটা এখনও নিশ্চত না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবি ফিলিস্তিনকে শান্তি আলোচনায় প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করা এবং একটি কাল্পনিক (ফিলিস্তিন) রাষ্ট্রের একতরফা স্বীকৃতি চাওয়ার জন্য দোষারোপ করেছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাও বন্ধ করতে হবে ফিলিস্তিনকে।
এ বিষয়ে ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার সিদ্ধান্তে তারা বিস্মিত।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক সদস্য। ফলে এটি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সদর দপ্তরের চুক্তির স্পষ্ট পরিপন্থি। তাই তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই পদক্ষেপ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, তারা এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা যায়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে স্থায়ী পর্যবেক্ষক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিত্ব থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪৭টি রাষ্ট্র দ্বারা স্বীকৃত। তবে কোনো নির্দিষ্ট সীমানা না থাকায় পশ্চিম তীরের বিশাল অংশ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের দখলে রয়েছে।
উল্লেখ্য, হামাসের হামলার পর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় অভিযান শুরু করে। হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তখন থেকে গাজায় ৬৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।