‘উয়েফা প্রেসিডেন্টস আওয়ার্ড’ পেলেন ইব্রাহিমোভিচ

মোনাকোর গ্রিমালদি ফোরামে গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে উয়েফা চ্রাম্পিয়ন্স লিগের ২০২৫-২৬ মৌসুমের ড্র। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুইডিশ তারকা ফুটবলার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। ফুটবল ক্যারিয়ারে তার অর্জনের পাশাপাশি জনপ্রিয়তাও ব্যাপক। খেলার পাশাপাশি মানবিক কাজ করে সকলের মনে জায়গা করে নিয়েছেন ইব্রাহিমোভিচ। এর পুরস্কার হিসেবে গতকাল তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে মর্যাদাপূর্ণ ‘উয়েফা প্রেসিডেন্টস অ্যাওয়ার্ড’।
১৯৯৮ সাল থেকে উয়েফা প্রতিবছর এই পুরস্কার দিয়ে আসছে। ফুটবল মাঠে ভালো খেলার পাশাপাশি মাঠের বাইরেও ভালো কাজ করেছেন এমন একজন খেলোয়াড় বা ব্যক্তিত্বের হাতেই এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। গতকাল (২৮ আগস্ট) পুরস্কারটি তার হাতে তুলে দেন উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন।
উয়েফার ওয়েবসাইট থেকে জানানো হয়েছে, ইব্রাহিমোভিচ শুধু মাঠে ভালো খেলেই সবার মন জয় করেননি, মাঠের বাইরেও মানুষের জন্য অনেক ভালো কাজ করেছেন। তার আত্মবিশ্বাস, উদার মানসিকতা ও মানসিক শক্তি তাকে একজন ফুটবল তারকা হওয়ার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হিসেবেও পরিচিত করে তুলেছে।
ইব্রাহিমোভিচ ক্যারিয়ার গড়েছেন উইরোপের বড় বড় সব ক্লাবে। তার ফুটবল ক্যারিয়ার ছিল সফল। সাবেক এই এসি মিলান ও বার্সেলোনা তারকা জিতেছেন অনেক শিরোপা। যেসব ক্লাবে খেলেছেন সেখানেই নিজেকে মেলে ধরে দলে অবদান রাখার চেষ্টা করে গেছেন। অসাধারণ কিছু গোলের কারণে দর্শকরাও সবসময়ই তাকে মনে রাখবে।
কিন্তু ইব্রাহিমোভিচ শুধু তার খেলোয়াড়ি জীবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। মাঠের বাইরেও তিনি নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে বড় অঙ্কের অনুদান দিয়েছেন, অসহায় শিশুদের সাহায্য করেছেন। বিশ্বজুড়ে তার জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে তিনি ক্ষুধা দূর করা, শিক্ষার প্রসার ও দুর্যোগে ত্রাণ সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজেও অংশ নিয়েছেন।
উয়েফা সভাপতি সেফেরিন সাবেক এই সুইডিশ তারকাকে পুরস্কার দেওয়ার পর বলেন, ‘জ্লাতানকে সবাই চেনে একজন চূড়ান্ত প্রতিযোগী, সহজাত বিজয়ী এবং পপ-কালচারের আইকন হিসেবে। কিন্তু এর চেয়েও বড় কথা হলো তিনি একজন অসাধারণ মানুষ। তিনি একজন ‘গোল্ডেন বয়’, যিনি কখনোই নিজের শেকড় ভুলে যাননি। স্বীকৃতির আগে সহানুভূতিকে স্থান দিয়েছেন, নীরবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ বছরের পুরস্কার তার হাতে তুলে দিতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত।’
পুরস্কার হাতে পেয়ে ইব্রাহিমোভিচও নিজের অনুভূতি জানান। তিনি বলেন, ‘এই পুরস্কার পাওয়া আমার জন্য বড় সম্মানের ব্যাপার। আমি এর জন্য উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিনকে ধন্যবাদ জানাই। এর মানে হচ্ছে, আমি আমার ক্যারিয়ারে কিছু অর্জন করতে পেরেছি, এছাড়া এই পুরস্কার পেতাম না। আমি ভীষণ খুশি। আমি সৌভাগ্যবান যে বড় বড় খেলোয়াড় আর বড় ক্লাবের সঙ্গে খেলতে পেরেছি। সেটাই আজকের আমাকে গড়ে তুলেছে। আমি কৃতজ্ঞ ও আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।’
ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই প্রতিযোগিতার ড্রয়ের অনুষ্ঠানে পট থেকে ক্লাবের নাম তোলার কাজটিও করেছেন ইব্রাহিমোভিচ। যেখান থেকে দলগুলোর প্রতিপক্ষ ও ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে।